যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন

হাউস ডেমোক্র্যাটদের দখলে সিনেট রিপাবলিকানদের

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ বা ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। আট বছরে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করল। তবে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ দখলে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল। এখন ডেমোক্র্যাটরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনিক এবং ব্যবসায়িক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে। প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত পরিকল্পনাতেও বাধা দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা।

ইতোমধ্যে পাওয়া ফলে নিম্নকক্ষের ২০৪টি আসন নিশ্চিত করেছে তারা, অপরদিকে রিপাবলিকানরা জয় পেয়েছে ১৮৭টি আসনে। হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২১৮টি আসন প্রয়োজন। এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে সিনেটের ৫১টি আসনে জয় পেয়েছে রিপাবলিকানরা, এর মাধ্যমে তারা উচ্চকক্ষে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। অপরদিকে, ডেমোক্রেটরা এ পর্যন্ত জয় পেয়েছে ৪৪টি আসনে, এর মধ্যে দুই জন আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী। ফলাফল বাকি আছে আর ৫টি আসনের। বিবিসির প্রতিবেদক অ্যান্থনি যুরখারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাহী এবং বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ পাবেন। সিনেটে আধিপত্য ধরে রাখার মাধ্যমে রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেশ কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সফল হবে, যার মধ্যে বিচারক নিয়োগ অন্যতম।

মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম ২ আদিবাসী নারী : যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার কংগ্রেসের সদস্য হতে যাচ্ছেন আদিবাসী দুই আমেরিকান নারী।

কানসাসের শেরিস ডেভিডস ও নিউ মেক্সিকোর ডেবরা হাল্যান্ড এ ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

আদিবাসী আমেরিকান এ দুই নারীই ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সিএনএন বলেছে, শেরিস আমেরিকার আদিবাসী হো-চাঙ্ক জাতির সদস্য, আর ডেবরা এসেছেন পুয়েবলো অব লাগুনা থেকে। কানসাসে আইনজীবী ও মিক্সড মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় শেরিস ডেভিডস কংগ্রেসে যাওয়া প্রথম সমকামী প্রতিনিধি বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ২ মুসলিম নারী

প্রথমবারের মতো দুজন মুসলিম নারী প্রতিনিধি সদস্য পেল যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস। মিনেসোটা ও মিশিগানের ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবকে নির্বাচিত করেছে, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। গৃহযুদ্ধের কারণে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে আসা ওমর একজন সাবেক শরণার্থী ও তালিব ডেট্রয়িটে জন্মগ্রহণকারী ফিলিস্তিন-আমেরিকান পিতামাতার সন্তান।

তারা দুজনেই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ইলহান ওমর সোমালিয়া থেকে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনিসোটা অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদেরও সদস্য ছিলেন। শিশু বয়সে তিনি চার বছর কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রথম হিজাব পরা সদস্য হতে যাচ্ছেন ৩৬ বছর বয়সী ওমর।

অপরদিকে, ৪২ বছর বয়সী তালিবও ইতিহাসের ধারা পাল্টে দেওয়া আরেকজন নারী। ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে তিনি মিশিগান আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এক পরিবারের ১৪ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। ডেট্রয়িটে তার পিতা ফোর্ড মোটর কোম্পানির একটি প্রকল্পের কর্মী ছিলেন। আদিবাসী ও মুসলমান নারীদের এ জয়কে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অশনিসংকেত হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ‘দারুণ সফল’ দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ‘দারুণ সফল’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানো সত্ত্বেও তিনি এমন দাবি করেন। টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ রাত দারুণ সফল। সকলকে ধন্যবাদ!’

"