ইসির সঙ্গে বৈঠক

তফসিল ঘোষণার প্রতি আ.লীগ-জাপার সমর্থন

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আপত্তি জানালেও আজ বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সমর্থন জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জোট সঙ্গী জাতীয় পার্টি। গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে গিয়ে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান জানায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জাপার দুটি প্রতিনিধি দল। আওয়ামী লীগের ১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম ও জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা এবং অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ইসিতে বৈঠকের পর এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, তফসিলের বিষয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত নেবে তার প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। নির্বাচন কবে হবে, তফসিল ঘোষণার সেই এখতিয়ার কেবল নির্বাচন কমিশনের। আমরা তাদের বলেছি, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সমর্থন রয়েছে। ইসির সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েক নেতার আচরণের নিন্দাও জানান এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যাদের মধ্য অনিবন্ধিত দলও ছিল। তাদের কেউ কেউ ইসির সঙ্গে অমার্জিত আচরণ করেছেন, আঙুল তুলে হুমকি দিয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন কমিশনের প্রতি এই ধরনের আচরণ গ্রহণ করবে না, এর জবাব ভোটের মাধ্যমে দেবে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে বলেও প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রত্যাশা এবং আশা আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সবাই অংশ নেবে। এটি হবে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে আমরা সীমিত আকারে নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারের কথা বলেছি। যেহেতু এটা অনেকেই জানে না তাই এর ব্যবহার নিয়ে পোলিং এজেন্টদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই নির্বাচন কমিশনকে আমরা কখনোই নিয়ন্ত্রণ করিনি। ভবিষ্যতেও করব না। বরং আমরাই স্বাধীন ইলেকশন কমিশনের জন্য আন্দোলন করেছি। জনগণ রাজনৈতিক দল সবাই মিলে যদি আমরা সহায়তা করি তাহলে ইসি এমন উচ্চতায় পৌঁছাবে যে, কেউ আঙুল তোলার সাহস পাবে না।

তফসিল ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তাদের সিদ্ধান্ত তারাই নেবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন বিষয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিরুদ্ধে আমরা কখনই ছিলাম না। তবে আইনে উল্লেখ আছে, সেনাবাহিনীকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক তাদের মাঠে নামাতে পারেন। নির্বাচনের সময় যেহেতু ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা হন তারা প্রয়োজনে সেনা নামানোর নির্দেশনা দিতে পারেন। আমরা অতীতেও দেখেছি, সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।’

এইচ টি ইমাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষে বিএনপি মির্জা ফখরুল বলেছেন, সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে। যেহেতু সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে, সেক্ষেত্রে সহিংস পরিস্থিতির বিষয়টিও আসে না।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, আমাদের নির্বাচন পরিচালনায় কোনো বিষয় যদি আপনাদের কাজে আসে সে বুদ্ধি আপনারা দিতে পারেন। আমাদের কোনো কথাও যদি আপনাদের কাজে লাগে, সেটা আমরা বলব।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রাশিদুল আলম, সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, গোলাম রাব্বানী চিনু, মারুফা আক্তার পপি, কেন্দ্রীয় নেতা তানভীর ইমাম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, এনামুল হক চৌধুরী, সেলিম মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা।

এর আগে সকালে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে নির্ধারিত তারিখে তফসিল ঘোষণা, ইভিএম ব্যবহার বন্ধ করাসহ আট দফা দাবি জানায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট।

বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র জাপাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। আমরা ৮ দফা নিয়ে বক্তব্য রেখেছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ ৮ নভেম্বর করা হোক।

জাতীয় পার্টির আট দফায় নির্বাচনের সময় মোটরসাইকেল বা গাড়ির ব্যবহার সীমিত রাখা, একই আকারের পোস্টার ব্যবহার, সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখার কথাও রয়েছে।

প্রতিনিধিদলে এরশাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এম এ সাত্তার, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, দেলোয়ার হোসেন খান, সুনীল শুভ রায়, এস এম ফয়সল চিশতী, আবদুস সবুর আদু ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

এছাড়া জোটের শরিক নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাহফুজুল হক, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ ও জাপার কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ইসি সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ। সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় শতভাগ প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ তফসিলের আগে আর কোনো দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে সংলাপ না করার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো দল এমন কোনো পরামর্শ দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, তারা পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব না দিতে দাবি জানিয়েছে। তফসিলের পরে ডিসি-এসপিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর যদি কোনো দল বা কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।

"