সিইসির আপত্তি উপেক্ষিত

কেনা হচ্ছে ৪২ হাজার ট্যাব!

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৪২ হাজার ট্যাব কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনের ভোটের ফল ও তথ্য দ্রুততার সঙ্গে কেন্দ্রে (ইসি) পাঠাতে ওই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি ট্যাবের পেছনে ইসির ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। এ হিসাবে এই খাতে ইসির ব্যয় হবে ৪২ কোটি টাকা। তবে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা খাতে এ টাকার কোনো উৎস রাখা হয়নি। যার পরিপ্রেক্ষিতে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো নুরুল হুদা এতে আপত্তি জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তার এই আপত্তি উপেক্ষিত হচ্ছে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে ট্যাব ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের বিধিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি ট্যাব ও সফটওয়্যার কেনার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ট্যাব কেনার অনুমোদনের সময়ে আপত্তি ছিল সিইসির। কারণ বিধি প্রণয়ন ছাড়া ট্যাব ব্যবহার নির্বাচনকে আইনি জটিলতা বাড়াতে পারেÑ এমন শঙ্কার কথা জানান তিনি। ট্যাব কেনার ক্ষেত্রে কারিগরি কমিটির মত নেওয়ারও মত দেন সিইসি। সেটিও মহল বিশেষের কাছে ধোপে টেকেনি বলে জানা গেছে। তবে এ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারিগরি কমিটির মতামত নিয়েই তারা এ পথে এগিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ট্যাব ব্যবহার হলে তার সুফল পায়নি ইসি। ২৫টি কেন্দ্রের একটিতেও নির্দিষ্ট সময়ে ট্যাব যথাযথভাবে কাজ করেনি। তাছাড়া চারটি (৪) ভোটকেন্দ্রের ট্যাব ছিনতাই হয়, যা পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ট্যাবের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার কেনা হচ্ছে। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ট্যাব এবং সফটওয়্যার কিনছি। এটাকে আমরা কমপ্লিট সলিউশন হিসেবে দেখছি। সিইসি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে এসব কেনার কথা বলেছেন, আমরা তার মতামত নিয়ে এ কাজটি করছি।’

ইসির তথ্যমতে, গত ১৯ মার্চ কমিশনের ২২তম সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পাইলটিং হিসেবে কিছু ট্যাব কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এর আলোকে গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ট্যাব কেনার প্রস্তাব করে ইসির আইসিটি অনুবিভাগ। এতে আপত্তি জানায় সিইসি। তার (সিইসি) ওই আপত্তির পর অক্টোবরের মাঝামাঝি পুনরায় ট্যাব ও বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার কেনার প্রস্তাব তোলা হলে সেটি ‘অলৌকিকভাবে’ অনুমোদন পেয়ে যায়।

ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ইসির ২২তম সভায় বৈঠকে ট্যাব কেনার বিষয়ে তিনটি সিদ্ধান্ত হয়। সেগুলো হচ্ছেÑ কিছু কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য দ্রুত বেশ কিছু ট্যাব কিনতে হবে, পাইলটিং হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব ট্যাব ব্যবহার এবং পাশাপাশি বিদ্যমান পদ্ধতি বহাল রাখতে হবে। নির্বাচনী ফলাফল সরবরাহে ট্যাব ব্যবহার করতে হলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার পরিবর্তন আনতে হবে। তারা জানান, বিধিমালা পরিবর্তন না করেই এ তিন সিদ্ধান্তের আলোকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চারটি কেন্দ্রে ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ২৫টি কেন্দ্রে ট্যাব পাইলট আকারে ব্যবহার করা হয়। এতে সুফল পায়নি ইসি। তারা বলেন, ট্যাবের সঙ্গে সফটওয়্যার কেনার জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে। এ টেন্ডারের শর্তারোপ নিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আপত্তিও জমা পড়েছে।

আরো জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ১৯৯টি। তবে এ সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে একটি ট্যাব দেওয়া হবে। এ ট্যাবের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতির তথ্য, নির্র্দিষ্ট সময়ের পর পর ভোট পড়ার হার ও ফলাফল দ্রুত ইসি ও রিটার্র্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাবে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সফটওয়্যার ওই ট্যাবে ইনস্টল থাকবে।

জানা গেছে, ট্যাব ও সফটওয়্যার কেনার জন্য প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ অনুবিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে আইসিটি অনুবিভাগ। ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক এক ইউও নোটে এ অর্থ সংস্থানের অনুরোধ জানান। সংশ্লিষ্ট শাখা জানিয়েছে, ট্যাব ও সফটওয়্যার কেনার মতো অর্থ বাজেটে সংস্থান করা হয়নি।

 

"