জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় ড. কামাল

জনগণকে রোখার উপায় কারো নেই

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনসহ সাত দফা দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণ জেগেছে, জনগণকে রোখার উপায় কারো নেই। জনগণকে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে। আর সমঝোতার আগেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণভবনে দ্বিতীয় দফা সংলাপের আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে মির্জা ফখরুলের এই ঘোষণা আসে। তিনি বলেন, এই সরকার যদি আগামীকাল সংলাপে আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো মেনে না নেয়, তাহলে বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে যাত্রা শুরু করব রোড মার্চ করে। রাজশাহীতে শুক্রবার জনসভা হবে। রাজশাহীর পর খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ঐক্যফ্রন্ট জনসভা করবে জানালেও কোনো তারিখ বলেননি বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করতে চায় তাহলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা হবে। এরপর আমরা আরো কর্মসূচি ঘোষণা করব।

মির্জা ফখরুললের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। আর জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব ছিলেন প্রধান বক্তা।

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণ জেগেছে, জনগণকে রোখার উপায় কারো নেই। জনগণকে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে। জেলায় জেলায়, থানায় থানায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। রাস্তা, নৌপথ, রেলপথ বন্ধ করে জনগণকে নিষ্ক্রিয় রাখা যাবে না।

সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মালিক হিসেবে আপনারা আজ এখানে দাঁড়িয়েছেন। আপনাদেরকে দেশের মালিক ভাবতে হবে। এটা কোনো ব্যক্তির রাষ্ট্র নয়। এদেশে কোনো রাজতন্ত্র নেই, রাজা নেই, মহারানি নেই। দেশের মালিক ১৬ কোটি জনগণ। সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা দেশে অন্যায় বন্ধ করব। আমাদের ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোটের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।

সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে মুক্ত করব, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। তিনি বলেন, বিএনপি নয়, ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারদের পদে পদে বিপদে ফেলা হয়েছে। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই অবৈধ সরকার ১০ বছর দেশকে শোষণ করেছে। উন্নয়নের কথা বলে লাগামহীন দুর্নীতি করেছে। নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্যই এবারও প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এবার সেই তামাশার নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।

সরকার ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি না মানলে সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। বিএনপির একজন নেতাকর্মীকেও ঘরে থাকতে দিচ্ছে না। প্রলয় আসছে, চোখ বন্ধ করে থাকলেও এই প্রলয় বন্ধ হবে না। ভাবতে পারেন গুম-খুন- গ্রেফতার করলে আন্দোলন থেমে যাবে। কিন্তু না আন্দোলন থামবে না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতির কারণে সরকারের উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার ১০ মাসে সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ হত্যা করছে বিনাবিচারে। তাই রাষ্ট্রের মেরামত করা দরকার।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বুধবার যে সংলাপ হবে, সে সংলাপে শুধু মুখে নয়, লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে। কারো নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া যাবে না, গ্রেফতার করা যাবে না, গায়েবি মামলা দেওয়া যাবে না।

দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া এই সমাবেশে বিএনপির সহযোগী সংগঠন, ঢাকা ও আশপাশের জেলার সাবেক এমপি এবং জনপ্রতিনিধিরা যোগ দেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উত্তর-দক্ষিণমুখী জনসভা মঞ্চের ব্যানারে লেখা ছিল অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৭ দফা দাবির কথা।

জোটের শরিক বিএনপি, জেএসডি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া এবং নতুন যুক্ত হওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এ জনসভায়।

 

"