প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাল ফের সংলাপ

এবার সংবিধানের মধ্যে সমাধান খুঁঁজছে ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিবিসি বাংলা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মাত্র এক দিন আগে অর্থাৎ কাল বুধবার দ্বিতীয়বারের মতো আবারও সংলাপে বসতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগ। এবার সংলাপের উদ্যোগের শুরুতে আওয়ামী লীগের চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী ‘সংবিধানসম্মত’ আলোচনার ওপর জোর দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, সংবিধানসম্মত বলতে সংসদ বহাল রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের কথাই বোঝানো হয়েছে। যদিও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনচালীন সরকারের কথা বলেছে।

এখন দ্বিতীয় দফায় সংলাপের আগে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা বলছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেই কিছু করা যায়

কিনা, তারা এখন সেটা বিবেচনা করছেন। শেষ মুহূর্তের এই সংলাপে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টিকে সংলাপে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘আমরা যে সাত দফা দাবি দিয়েছি, সেটার লক্ষ্য হলো একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যাতে করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে সংসদ বাতিল, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সামরিক বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েনের প্রশ্ন আছে। এসব বিষয়ে আমাদের কাছে যদি কোনো ব্যাখ্যা চাওয়া হয়, আমরা সেটা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘তবে মূল ফোকাসটা থাকবে নির্বাচনকালীন সরকারের ওপরে আর সংবিধান সংশোধন করার প্রস্তাব তো আমাদের আছেই। সংবিধান সংশোধন না করেই সংবিধানের মধ্য থেকে কিছু করা যায় কিনা, আমরা সেটা বিবেচনা করছি। আসল কথা হলো, আমাদের পক্ষ থেকে কতটা মানিয়ে নেওয়া সম্ভব, সেটাও বিবেচনার বিষয়।’

তবে পুনরায় সংলাপে সরকারের সায় দেওয়াকে বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন সাবেক এই আওয়ামী লীগের নেতা। সরকার যদি গ্রহণযোগ্যতার মানসিকতা নিয়ে সংলাপে অংশ নেয়, তাহলে এবারের আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

এদিকে, সংলাপে ঐক্যফ্রন্ট নির্দিষ্ট কোন প্রস্তাবগুলো সামনে রাখবে, সে প্রসঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সংবিধানের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে সংলাপে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চায়না ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হোক। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, সেজন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, তারা যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তাদের ওপর যেন সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সংলাপে আমরা এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেষ্টা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার থাকবে নামমাত্র। নির্বাচনকালীন সময় তাদের কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকবে না। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যেসব পশ্চিমা দেশ থেকে যদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল আসে। আমাদের তাতেও কোনো আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনকালীন সময় সামরিক বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েনের যে দাবি ঐক্যফ্রন্ট দিয়েছে, সেটা সংবিধান অনুযায়ী সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়, তেমনি নির্বাচনে যদি এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে তাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে কোনো বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হবে না। ম্যাজিস্ট্রেট বা সিভিল প্রশাসনের জুডিশিয়ারি যারা, তারাই এই ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার খাটানোর এখতিয়ার রাখেন।’

তফসিল ঘোষণার আগে শেষ মুহূর্তের এই সংলাপকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন সময় সংবিধান বা আইনে কোনো পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান।

তিনি বলেন, ‘যারা দাবিদাওয়া উপস্থাপন করবেন। তাদের নিশ্চয়ই মাথায় আছে যে, সংবিধান পরিবর্তনের এখন আর সময় নেই। কিন্তু সংবিধান আর আইন সংশোধনের বাইরে যে দাবিদাওয়াগুলো আছে সেগুলোতে দরকষাকষির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সেখানে অনেক কিছু মেনে নেওয়ারও জায়গা তৈরি হবে।’

এ ছাড়া নির্বাচন সর্বজনবিদিত করতে আওয়ামী লীগ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা করেন। এর আগে ১ নভেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তিন ঘণ্টাব্যাপী সেই সংলাপ হলেও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি বলে বিরোধীপক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়। তবে এবারের সংলাপে দুই পক্ষ যদি ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে বাস্তবসম্মত দাবি উপস্থাপন করে, তাহলে একটি সমঝোতায় আসা সম্ভব।

 

"