ইভিএম ব্যবহারের বিধিমালা চূড়ান্ত

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অধ্যাদেশ জারির পর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বিধিমালাও চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি সচিবালয়। গত শনিবার শুরু হওয়া মুলতবি সভায় গতকাল রোববার বিকেলে এ বিধিমালা চূড়ান্ত রূপ পায়; এর মাধ্যমে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের

প্রযুক্তির সহায়তায় ভোটগ্রহণের পথ খুলল। ফলে ব্যালটের বিকল্প এই প্রযুক্তি নির্বাচন ব্যবস্থাকে সহজীকরণ করল, যাতে ভোটগণনা প্রক্রিয়া ও ফল দ্রুত প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

ইভিএম বিধিমালা চূড়ান্ত হয়েছে বলে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন ইসির যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম। বলেন, রোববার বিকেল ৩টায় মুলতবি সভা শুরু হয়। ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ সভা। তফসিল কবে নাগাদ হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিকেলে আরেক দফা কমিশন বসবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। ইভিএম বিধিমালা হওয়ায় সংসদ নির্বাচনে এর ব্যবহারের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত হলো। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ৩১ অক্টোবর সংশোধিত আরপিও অধ্যাদেশ আকারে জারি করেন; যেখানে ইভিএমের বিধানটি যুক্ত ছিল। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধিত আরপিওর অনুমোদন হয়েছিল।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইভিএম চালুর ৮ বছর পর প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। ২০১০ সালের জুন মাসে স্বল্প পরিসরে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ইভিএম চালু হয়। ড. শাসুল হুদার কমিশনের সময়ে এটার প্রথম ব্যবহার হয় ওই সিটি নির্বাচনে। তাদের সময়ে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচন এবং নরসিংদী পৌরসভাসহ ইউপি নির্বাচনেও এর ব্যবহার হয়। পরবর্তী সময়ে কাজী রকিবউদ্দিন কমিশন ইভিএমে ভোট নিতে উদ্যোগ নেয়। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচনের এই প্রযুক্তির ব্যবহার হলে রাজশাহী সিটির সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ত্রুটি ধরা পড়ে। ত্রুটি নিয়ে বুয়েট-ইসি দ্বন্দ্বে ২০১৫ সালে এসে ওই ইভিএম বন্ধ হয়ে যায়। পরে ডিজিটাইজড সুবিধা সংবলিত নতুন ইভিএম তৈরি করে ইসি। ২০১৬ সালে রংপুর সিটি নির্বাচনে তা চালু হয়। এর দুই বছরের মাথায় সংসদে নতুন প্রযুক্তিটি চালু হচ্ছে। ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইভিএম বিধিমালা ২০১৮’ এ রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, ভোট গণনা, ফল একীকরণসহ নানা বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, আইনি ভিত্তি পাওয়ার পর স্বল্প পরিসরে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে। এবার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কয়টি কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে তা কমিশনই চূড়ান্ত করবে। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এসব কেন্দ্র বাছাই করা হবে বলে এরই মধ্যে জানিয়েছেন সিইসি।

এ সপ্তাহের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। সিইসির জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভোটের তারিখ ও ইভিএম নিয়ে বিস্তারিত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।

যেভাবে ভোট ইভিএমে

আঙুলের ছাপ, ভোটার নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা স্মার্ট পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভোটার শনাক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটকক্ষে একজন করে ভোটার ভেরিফিকেশন করেন পোলিং অফিসার। এরপর ডাটাবেজে ভোটার বৈধ হিসেবে শনাক্ত হলেই ভেরিফিকেশনের সঙ্গে যুক্ত প্রজেক্টের মাধ্যমে তা পোলিং এজেন্টের কাছে দৃশ্যমান হবে।

মেশিনটিতে কুইক রেসপন্স কোড ছজ ঈঙউঊ সহ আরো কিছু তথ্য সংবলিত টোকেন মুদ্রণ করে ভোটারকে দেওয়া হয়। ভোটার টোকেন নিয়ে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে এলে ভোটিং মেশিনের ছজ ঈঙউঊ স্ক্যানারের মাধ্যমে শনাক্ত করে গোপন কক্ষে থাকা পদের জন্য ব্যালট ইউনিটে ব্যালট ইস্যু করা হবে।

ভোটার পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীক দেখে বাম দিকে বোতামে চাপ দিয়ে সিলেক্ট করবেন এবং ওই ব্যালট ইউনিটের সবুজ রংয়ের ঈঙঘঋওজগ বোতাম চেপে তার ভোট শেষ করবেন।

কখনো ভুলবশত কোনো প্রতীক সিলেক্ট করা হলে ব্যালট ইউনিটের লাল রংয়ের ঈঅঘঈঊখ বোতাম চেপে পরবর্তীতে যেকোনো প্রার্থীকে আবার সিলেক্ট করা যাবে। এভাবে দুইবার ঈঅঘঈঊখ করা যাবে, তৃতীয়বার যেটি সিলেক্ট করা হবে সেটি বৈধ ভোট হিসেবে গৃহীত হবে।

ঢাকায় ইভিএম মেলা ১২-১৩ নভেম্বর

ইভিএমের ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ নাগরিক ও ভোটারদের সচেতন করতে অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় মেলা। এর প্রদর্শনী ৬৪ জেলায় ছড়িয়েছে। এবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনের প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে ইসি। আগামী ১২-১৩ নভেম্বর এ প্রদর্শনী হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের ইভিএমে ভোট নিতে প্রায় আড়াই লাখ ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। গত অক্টোবর এ লক্ষ্যে একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিটি ইভিএমের পেছনের ইসির ব্যয় হবে দেড় লাখ টাকা। আর দেশের বাইরে এই প্রযুক্তির একটার পেছনে যে ব্যয় হওয়ার কথা তার চেয়ে ১১গুণ বেশি ব্যয় হবে বাংলাদেশে তৈরি ইভিএমের।

 

"