রংপুরে মইনুলের জামিন নামঞ্জুর

জুতা স্যান্ডেল ও ডিম নিক্ষেপ, ঝাড়ু প্রদর্শন, সংঘর্ষ, আহত ২০

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রংপুর ব্যুরো

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুর দেড়টার দিকে রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২২ নভেম্বর।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত জামিন আবেদনের শুনানি হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী পিপি আবদুল মালেক প্রতিদিনের সংবাদকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মইনুলের আদালতে হাজির হওয়ার খবরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সাংবাদিক ও উৎসুক মানুষ আদালতে ভিড় জমায়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি হয়। পুলিশি পাহারায় একটি মাইক্রোবাসে মঈনুলকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হলে দলটির নেতাকর্মীরা মাইক্রোবাসের ওপর জুতা, সেন্ডেল ও ডিম নিক্ষেপ করে। মহিলারা ঝাড়ু প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ব্যারিস্টার মইনুলের মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেয়।

এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলার হাজিরা দিতে এলে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। স্লোগান পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে। এক পর্যায়ে আদালত চত্বরে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, এতে ৫ পুলিশসহ উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের জন্য উভয় দল পরস্পরকে দায়ী করেছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এসপি আলতাব হোসেন আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ব্যারিস্টার মইনুলের জামিন শুনানি শেষে জেল হাজতে নিয়ে যাওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিতে শুরু করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। পরে পুলিশ ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সংঘর্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট দিলশাদ হোসেন মুকুল মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহত বেশকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক তৌহিদুল রহমান টুটুল জানান, জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বিএনপি যে কান্ড ঘটাল তা কাম্য ছিল না। রংপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সামছুজামান সামু জানান, মামলার হাজিরা দিতে আদালতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে বেশ কয়েকজন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী আহত হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে অথচ তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এর আগে গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ব্যারিস্টার মইনুলকে রংপুর নিয়ে আসা হয়। এর আগে ২৫ অক্টোবর জামিনের আবেদন করেছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কয়েকজন আইনজীবী। সেই সময় নথি না আসায় জামিনের শুনানি হয়নি। গত ২২ অক্টোবর মানবাধিকার কর্মী নগরীর সুরুজ মিয়ার স্ত্রী মিলি মায়া বেগম রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

 

"