কওমি শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী

অপপ্রচারে বিশ্বাস করবেন না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে : আল্লামা শফী * ‘কওমি জননী’ উপাধি পেলেন শেখ হাসিনা

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অপপ্রচারে বিশ্বাস না করতে কওমির আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আলেম-ওলামাদের দোয়াও চেয়েছেন তিনি। কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আয়োজিত শুকরানা মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শুকরানা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। যতদিন বাঁচব মানুষের যাতে সেবা করে যেতে পারি, কল্যাণ করে যেতে পারিÑ এটাই আল্লাহর কাছে চাওয়া। গতকাল রোববার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি শিক্ষার্থীদের এই মাহফিলে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জানি সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। কাজেই এই অপপ্রচারে কেউ বিশ্বাস করবেন না। এই অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী কওমি শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। সনদের ওই স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেন ছয় বোর্ডের সমন্বিত সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশের সদস্য মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন। কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে আইন পাস করায় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে এ মাহফিলের আয়োজন করে সংস্থাটি।

অপপ্রচার বন্ধে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, এই অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা সাইবার ক্রাইম আইন তৈরি করেছি। কেউ যদি এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার করে, সঙ্গে সঙ্গে সেই আইন দ্বারা তাদের বিচার করা হবে, গ্রেফতার করা হবে।

ধর্মীয় বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ধর্ম ইসলাম ধর্ম এবং নবী করিম (সা.) সম্পর্কে কেউ কোনো (অবমাননাকর) কথা বললে, আইন দ্বারাই তার বিচার হবে। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার করে উচিত শিক্ষা দিয়ে দেব, যাতে তারা কোনোভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালাতে না পারে।

হাতেগোনা কয়েকটি লোক ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ইসলাম ধর্মের ‘বদনাম দেয়’ মন্তব্য করে সরকারপ্রধার বলেন, আমি যখনই কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যাই, কেউ যদি বলে ইসলামিক টেররিস্ট, আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানাই। আমি বলি, এটা বলতে পারবেন না। কারণ সবাই টেররিজমে বিশ্বাস করে না। বা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। যারা সন্ত্রাসী তাদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের কোনো দেশ নেই, তাদের কোনো সমাজ নেই। তারা হচ্ছে সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী। যারা সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, তারা কখনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শাস্তি বিঘিœত হোক তা আমরা চাই না। দেশে শান্তি থাকলেই উন্নতি হবে। উন্নতি থাকলে সবাই লাভবান হবে।

এ সংস্থার চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন প্রধান অতিথি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তার হাতে শুকরিয়ার স্মারক তুলে দেন আহমদ শফী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অবদান ইতিহাসে ‘সোনালি অক্ষরে’ লেখা থাকবে। সনদের ওই স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেন ওই সংস্থার সদস্য মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি ‘কওমি জননী’। আপনি না থাকলে সাহাবা ও আলেম-ওলামাবিরোধী জামায়াত-মওদুদীবাদীরা এটা হতে দিত না।

সংস্থার আরেক সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আমাদের একজন আপনাকে ‘কওমি জননী’ বলেছেন। আপনি মায়ের দরদ দিয়ে ইমামদের পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনদের তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেবেন।

আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে কওমি আলেমদের সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কওমি জননী হলে আপনারা কী? সন্তান। আপনারা সন্তান হলে সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি জননীর প্রতিও সন্তানদের দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা চাই।

কওমির আলেমদের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত ছিলেন এ মাহফিলে।

 

"