‘উসকানি মামলায়’ আমীর খসরু কারাগারে

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নিরাপদ সড়কের দাবিতে উসকানির অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা এই আদেশ দিয়েছেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আমীর খসরুর ছয় সপ্তাহের জামিন গত ৭ অক্টোবর শেষ হয়। সেদিন আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করলে বিচারক ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া নিম্ন আদালত থেকে মামলার নথিও পূর্ণাঙ্গ জামিন শুনানিতে উপস্থাপনের জন্য আদালত নির্দেশনা দেন।

তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় রোববার আমীর খসরু আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এর আগে গত ৪ আগস্ট রাতে আমীর খসরুর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। মামলার এজাহারে বলা হয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলেন। ইলেক্ট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। মামলার বাদী মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর একজন শান্তিকামী নাগরিক হিসেবে এ মামলা করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হয়। এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার মধ্যে গত ৪ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বলে অভিযোগ উঠে। সেই ক্লিপে কুমিল্লা থেকে নওমী নামের এক কর্মীর সঙ্গে একজনকে কথা বলতে শোনা যায়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে লোকজনকে নামানোর জন্য কথা বলতে শোনা যায় তাকে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

"