মহানবী (স.)-এর রওজায় শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা

ট্রেনিং ফাঁকি দিয়ে কেউ যেন বিদেশে না আসেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। আমরা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছি।’ বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা। যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে বিদেশে কাজ করতে এসে বিপদের সম্মুখীন হওয়ার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয় এটাই; এই যে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি, তার পরও অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে ট্রেনিং ফাঁকি দিয়ে চলে এসে বিপদে পড়েন। এটা যেন কেউ না করেন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সারি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে সকালে মদিনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের জনগণের পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। শেষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে জেদ্দায় গিয়ে কনস্যুলেট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশে না আসেন; সেজন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা রাখতে হবে। প্রত্যেকের অঞ্চলে এই তথ্যটা দিয়ে দেওয়া উচিত; যে দালালদের খপ্পরে পড়েন, সব বিক্রি করে, ফাঁকি দিয়ে কেউ যেন বাইরে আসতে চেষ্টা না করেন। দুই পয়সা খরচ করে একখানা সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশে এসে বিপদে পড়ে যান। এখানে অনেকে আছেন; তারা এই কথাটা পৌঁছে দেবেন। ট্রেনিংটা তারই কল্যাণে। তা না হলেই তারা অত্যাচারিত হন, নির্যাতিত হন। এ ব্যাপারে প্রবাসীরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকার প্রধান না থাকা অবস্থায় সৌদি আরব ভ্রমণের কথা মনে করে শেখ হাসিনা বলেন, এই জেদ্দায় এমনও দিন গেছে, তিনটা জায়গায় সভা করেছি। আগে যে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতাম, সে সুযোগটা আর এখন হচ্ছে না। এখন একটা প্রটোকলের বেড়াজাল, সিকিউরিটির বন্দিজীবন; এই হয়ে গেছে আমার সমস্যা।

সরকার প্রধান হিসেবে কাজের চাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ও কম, অনেক অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও জেদ্দায় সবার সঙ্গে কথা বলতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সব থেকে দুঃখ সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় না। যখন আমরা এসেছি, ওমরাহ করেছি, সব সময় আমাদের সঙ্গে যারা থেকেছেন, সহযোগিতা করেছেন; সেই কথাগুলো সব সময় মনে পড়ে।’

রিয়াদে কর্মব্যস্ত দিন শেষে গত বুধবার রাতে মদিনায় পৌঁছেই মসজিদ-ই-নববীতে এশার নামাজ আদায় করেন শেখ হাসিনা। মদিনায় যাওয়ার আগে বুধবার রিয়াদে সৌদি বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। ওইদিন রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে সৌদি আরবে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার সৌদি বাদশাহ এবং পবিত্র দুটি মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। একই দিন সৌদি যুবরাজ ও উপপ্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া তিনি সৌদির রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধন করেন। সর্বশেষ গতকাল বিকেলে তিনি পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। আজ শুক্রবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

"