নভেম্বরে তফসিল

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের লক্ষ্যানুযায়ী, এ সময়ে তফসিল ঘোষণা হলে ১৭-১৯ ডিসেম্বর ভোট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে, বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, ১৭ ডিসেম্বর ভোট চায় দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল। এর আগে চলতি মাসের শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যাবে নির্বাচন কমিশন; ওই সাক্ষাতেই তফসিল ও ভোটের তারিখসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি জানিয়ে আসবে কমিশন।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, গত ১৫ অক্টোবর প্রস্তুতিমূলক সভা করে এ নির্বাচনের কর্ম-পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। আর নির্বাচনের ৫ দফা নিদের্শনা দিয়ে গত ১৬ অক্টোবর কমিশনের মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সম্পন্ন করেছে সাংবিধানিক সংস্থা ইসি। ওই সভাতে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত থেকে শুরু করে সব বিষয়ে নিদের্শনা দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা চূড়ান্ত করতে কমিশন থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ নির্বাচনে সর্বসাকুল্যে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০২ কোটি টাকা। ২২দফাসহ ৯৯ কর্ম-পরিকল্পনাতে এ অর্থ ব্যয় হবে। আগামী ২১ অক্টোবর রোববার সকালে নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য কমিশনের উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইসি)।

ইসির নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন শাখার তথ্যমতে, ইতোমধ্যে নির্বাচনের সামগ্রী কেনাসহ এ নির্বাচনের প্রস্তুতির ৮০শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। শুধু সংসদ নির্বাচনে প্রতীকী ইভিএম ব্যবহার করার জন্য কমিশন অপেক্ষায় রয়েছে আসন্ন দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনের দিকে। কারণ এ অধিবেশনে নির্বাচনের আইন সংস্কার-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পাস হলে সংসদ নির্বাচনে শহরকেন্দ্রিক ভোটকেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবে ইসি। এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক দেখতে তৎপর হয়ে উঠেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয়ান ইউনিয়নসহ বাংলাদেশে অবস্থানরত সাত দেশের কূটনীতিক নির্বাচন কমিশনের গতকাল সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবাইর অংশগ্রহণে শাস্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবে প্রতিনিধি দলটি। সাক্ষাৎ সভায় সিইসি ছাড়াও অপর চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। আর প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিংকের নেতৃত্বে ব্রিটেন, জার্মানি, স্পেন, সুইডেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা।

বৈঠকের পর কমিশন সচিব সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রতিনিধি দলকে সিইসি জানিয়েছেন আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে, জবাবে প্রতিনিধি দল আহ্বান জানিয়েছেন এ নির্বাচনটি যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।

তাদের এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন থেকে আশ্বস্ত করে আমাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনের মধ্যে থেকে নির্বাচন কমিশনের যতটুকু ক্ষমতা রয়েছে, সব ক্ষমতা প্রয়োগ করে তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করে দেশ ও জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবে।

ইসি সচিব বলেন, তারা আমাদের কাছে পর্যবেক্ষক (অবজারভার) সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদের বলেছি, আমাদের ১১৯টি স্থানীয় পর্যবেক্ষণ গ্রুপ রয়েছে। এ ছাড়া বাইরের দেশ থেকে যে পর্যবেক্ষকেরা আসতে চাইবেন, তাদের স্বাগত জানানো হবে। তাদের জন্য একটি নীতিমালা আছে। সে অনুযায়ী, তারা সবকিছু করতে পারবেন। তাদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে।

হেলালুদ্দীন বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা আমাদের জনবল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চেয়েছেন। জবাবে বলেছি, সংবিধানের যে ক্ষমতা দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী, সব ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনবল উপস্থিত থাকবে। তারা ইভিএম নিয়েও কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছেন। সিইসি তাদের জানিয়েছেন, আইন পাস হলে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, যোগ করেন ইসি সচিব।

এদিকে, সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ইইউ প্রতিনিধি রেনসে টেরিংক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করি নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য কোনো সহযোগিতার দরকার হলে তা করবে ইইউ। নির্বাচনের আগে ইইউ বিশেষজ্ঞ টিম পাঠাবে। তফসিলের পরে নভেম্বরে তারা দুই সপ্তাহ অবস্থান করে ভোটের পরস্থিতি দেখবে। রেনজি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিবেশ দেখতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ইইউয়ের দুইজন প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসবেন। তারা কয়েক সপ্তাহ এখানে অবস্থান করবেন।

বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইইউ অন্যতম। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চেয়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষণে না আসার ঘোষণা এ সংস্থাই দিয়েছিল। এরপর কমনওয়েলথ ও যুক্তরাষ্ট্র পরে অন্যান্য দেশ ও সংস্থা তাদের পথই অনুসরণ করে। সে সময় সহিংসতার কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়েও উদ্বিগ্নতার কথা জানিয়েছিল সংস্থাগুলো। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সেই নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে অর্থাৎ ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকেই বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে না বলে জানাতে থাকে। ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশকিছু দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

উল্লেখ্য, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে সংসদের মেয়াদ পূর্ণের আগের ৯০দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নের। এ হিসেবে নির্বাচনের ক্ষণ-গণনা শুরু হচ্ছে ৩০ অক্টৈাবর থেকে পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি সময়ের মধ্যে। আর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে ইসি। এ নিয়ে ১০ কোটি ৪১ লাখের বেশি ভোটার, ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র ও প্রায় ৭ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা

"