ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘিরে দিনভর নাটক

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

বিশেষ প্রতিনিধি

নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘিরে গতকাল শনিবার দিনভর নানা নাটকের অবতারণা হয়। নানা ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বিএনপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করায় শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরে কি না-এ নিয়ে দিনব্যাপী নানা আলোচনা ছিল রাজনীতিতে। এমনকি বিকল্পধারা ভাঙনের আলোচনাও শোনা যায়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এসব নাটক সত্যে রূপ নেয়। বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ দিয়েই গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট। আর বিকল্পধারা না ভাঙলেও দলের বিপক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিকল্পধারার দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে। জাতীয়

ঐক্যে ভাঙনের আভাস মেলে গত শুক্রবারই। সেদিন আ স ম রবের বাসায় বৈঠকে বসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। বি. চৌধুরী ও ড. কামাল অবশ্য সে বৈঠকে ছিলেন না। তবে মাহি বি চৌধুরী ছিলেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপির কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসায় গতকাল শনিবার বিকেলে কামাল হোসেনের বাড়িতে বৈঠকের সময় ঠিক হয়। সে বৈঠক নিয়েই শুরু হয় নাটক।

শনিবারের বৈঠকে বসার কথা ছিল যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও বিএনপি নেতাদের। বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি. চৌধুরী বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান ছেলে মাহি বি চৌধুরীকে নিয়ে। কিন্তু বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে গাড়িতেই কিছুক্ষণ বসে থেকে ফিরে যান তারা। সেখানে মাহি সাংবাদিকদের বলেন, বাসায় দাওয়াত দিয়ে গেট খোলার কেউ নেই! একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এভাবে ডেকে এক রকম ব্যবহার কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। অথচ তখন মতিঝিলে নিজের চেম্বারে ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে ড. কামাল বৈঠক করছিলেন। ওই বৈঠকেই বি চৌধুরীকে ছাড়াই সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে, ড. কামালের বাসা থেকে ফেরার সময় পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার কথা জানান মাহি বি চৌধুরী।

পরে প্রথমে ড. কামাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বি চৌধুরীকে ছাড়াই বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোটের ঘোষণা দেন। এর ঠিক আধা ঘণ্টা পর নিজ বাসায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানান বি চৌধুরী। সেখানে ঐক্য চাইলেও না হওয়ার জন্য কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদেরই দায়ী করে বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তারা যুক্ত হওয়ার পরও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বিভিন্ন কর্মসূচি এবং বক্তব্যের বিষয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছিল। এমনকি বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী স্পষ্ট বলেন, জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য যদি হয় বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় বসানো, তাহলে তাদের সঙ্গে আলোচনায় আমরা নেই।

অবশ্য জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছিলেন। ভাঙনের আশঙ্কাও করছিলেন তারা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, এই ‘জগাখিচুড়ি ঐক্য’ টিকবে না। প্রক্রিয়া শুরুর মাস না গড়াতেই বি. চৌধুরী ও কামালের সম্পর্কের এই ফাটল দৃশ্যত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভবিষ্যদ্বাণীর সঠিকতাই তুলে ধরল। এমনকি রাজনীতিতে বহুল আলোচিত এই জাতীয় ঐক্য যাত্রার শুরুতেই হোচট খেলো বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

"