প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত পদ্মাপাড়

দৃশ্যমান ৯০০ মিটার

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর প্রতিনিধি

স্বপ্নের পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, যাত্রাবাড়ী-ভাঙ্গা দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখতে আজ রোববার পদ্মাপাড়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পদ্মাপাড়ে চলছে নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি। কাজের অগ্রগতি দেখা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে দলীয় জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর অগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তার স্বার্থে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ব্যস্ততম এ নৌরুটের লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাট সরিয়ে কাওড়াকান্দি ঘাটে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল ও এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে তোরণ, সাইবোর্ড, বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

নেতাকর্মীরা জানান, জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সভায় লক্ষাধিক লোকের সমাগমের আশা ব্যক্ত করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের আগে ষষ্ঠ স্প্যানটি জোড়া লাগানোর ফলে মাওয়া প্রান্ত থেকে দৃশ্যমান পদ্মা সেতু। গত শুক্রবার সকালে মাওয়ার দিকে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর ধূসর রঙের ‘১ এফ’ নম্বরের ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয়।

প্রায় তিন বছর পর শেখ হাসিনার মাওয়া সফর নিয়ে প্রশাসনে এখন তুমুল ব্যস্ততা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম সভাস্থল পরিদর্শনসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে মাওয়ার দোগাছির পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়ার-১ এর মাঠে নামবেন। এরপর গাড়িতে যাবেন সেতু এলাকায়।

মাওয়া থেকে গিয়ে বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ওপারের জাজিরা প্রান্তে ইতোমধ্যে পাঁচটি স্প্যান বসানো হয়েছে। এখন এই প্রান্তেও একটি স্প্যান বসল।

মাওয়া প্রান্তে সদ্য তোলা স্প্যানটি ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির ওপর বসানোর কথা ছিল। কিন্তু খুঁটি দুটো প্রস্তুত না হওয়ায় এবং কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কশপে জায়গা না থাকার কারণে স্প্যানটি অস্থায়ীভাবে ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর তোলা হয়েছে। ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটি উঠে যাওয়ার পর স্প্যানটি সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অথচ সর্বপ্রথম এই খুঁটি দুটিরই কাজ শুরু হয়েছিল। সেই অনুযায়ী চীন থেকে সর্বপ্রথম ‘১ এফ’ স্প্যানটি বাংলাদেশে এসেছিল। নদীর তলদেশে মাটি নরম থাকার কারণে এই খুটির নকশা পরিবর্তন করতে হয়।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৭ নম্বর খুঁটিতেই পাইল স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেছিলেন।

পদ্মা সেতুর ৪২টি খুঁটিতে ৪১টি স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ১৪টি খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আর নদীতে ১৮০টি পাইল স্থাপন করা হয়েছে।

 

"