অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত

ওসমানী মেডিকেলে নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য!

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবল নিয়োগে প্রায় দুই কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এক বছরের জন্য জনবল নিয়োগের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে এই লেনদেন করে চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি পদের জন্য গুনতে হচ্ছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

সম্প্রতি বিষয়টি টের পেয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটির’ সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের জন্য হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর নির্দেশের তোয়াক্কা করছেন না ওই সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গত ১ অক্টোবর অভিযুক্ত ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটি’ কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন ৫৪ জন কর্মচারী।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৫ মে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবল সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ৩১ জুলাই ও ৮ আগস্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় ৭ শতাংশ কমিশনে ঢাকার বাসাবো পূর্ব মাদারটেকের ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস’ লিমিটেডের দাখিলকৃত দরপত্রটি গৃহীত হয়। গত ১৯ আগস্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে হাসপাতালে ৪ জন বাবুর্চি, ৪ জন সিকিউরিটি গার্ড, ৪৩ জন অফিস সহায়ক এবং ৩১ জন ক্লিনারসহ মোট ৮২ জন কর্মচারী নিয়োগের নির্দেশ দেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক। এ ছাড়া অতিরিক্ত ২০ ভাগ অর্থাৎ আরো ১৬ জনের জীবনবৃত্তান্তসহ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস প্রত্যেক পদে নিয়োগ প্রত্যাশীর কাছ থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে আদায় করে। ৮২ পদে নিয়োগে প্রায় দুই কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। জানা যায়, এসব পদে বেতন মাত্র ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সামান্য বেতনের এই চাকরি পেতে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক নিয়োগপ্রাপ্ত এক কর্মচারী জানান, আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকরি পেয়েছেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ লায়েক জনান, তিনি তার এলাকার কয়েকজন যুবককে চাকরি পাইয়ে দিতে কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষ্ণ কান্ত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সময় ফোনে কৃষ্ণ রায় তার কাছে প্রতিটি নিয়োগের জন্য আড়াই লাখ টাকা করে দাবি করেন। তবে কাউন্সিলরের ‘সম্মানে’ তিনি ২০ হাজার টাকা করে কম রাখতে পারবেন বলে জানান।

অপরদিকে, নিয়োগের বিপরীতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন কৃষ্ণা সিকিউরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষ্ণ কান্ত রায়। তিনি বলেন প্রতিটি পদের জন্য দুই লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে ইতোমধ্যে সকল পদে লোক নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক জানান, ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’ এর সঙ্গে জনবল নিয়োগের জন্য একটি চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। তবে টাকার বিনিময়ে লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এ বিষয়টি আমার জানা নেই।

 

"