জলবায়ু তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন গঠনের প্রস্তাব

অর্থ ব্যয় হচ্ছে কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির প্রভাব মোকাবিলায় প্রাপ্ত তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা এই প্রস্তাব দেন। কারণ এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তহবিলের টাকা কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ব্যয় হওয়ার কারণে সরকারের কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জিত হয়নি। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ থাকলেও অর্থের স্বচ্ছতা নেই। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন-২০১০ সংশোধন করে আরো যুগোপযোগী করার তাগিদ দেন বক্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের আইপিডি কনফারেন্স কক্ষে ‘নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ (এনসিসিবি)’ এর আয়োজনে ‘জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব প্রস্তাব রাখেন। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া প্রধান অতিথির পাশাপাশি সভায় সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে এনসিসিবির কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং সূচনা বক্তব্য দেন মোজ্জাম্মেল হক। সভায় সিপিডিপির শামসুদোহা ও বাপার মিহির বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত সমস্যা প্রকট হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো শিল্পায়নের নামে যে হারে কার্বন নিঃসরণ করছে তার বিরূপ প্রভাব পরিবেশের ওপর পড়ছে এবং ভুক্তভোগী হচ্ছে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যে আর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি উন্নত দেশগুলো দিয়েছে তা পূরণে তারা কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না।

তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার যে অর্থ বরাদ্দ করছে; তা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মানুষ সুবিধা পাচ্ছে না। তবে এ খাতে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য একটি কার্যকরী অথরিটি থাকা দরকার। এই অথরিটি প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা যেতে পারে। তাহলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন সরকার এর আগে কেউই ছিল না। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকবিলায় করণীয় বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

সরকারি প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ফান্ডের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলতে পারি; সেই সৎসাহস আমাদের রয়েছে। কারণ আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। সাবেক এই প্রধান হুইপ আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করেন বলে সংসদ এবং সংসদের বাইরে সবাই দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন। তবে এই তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন কিংবা কমিশন গঠন যেটাই করা হোক এর আগে আমাদের বিস্তর আলোচনা প্রয়োজন।

সরকার দলীয় এমপি নবী নেওয়াজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত তহবিল ব্যবহারে সমন্বয় নেই। সমন্বয়হীনতার কারণে সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে এর অর্থ পৌঁছাচ্ছে না। নিজের এলাকায় তিনি তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার বলে ক্ষোভ জানান।

ওয়ার্কার্স পার্টির এমপি অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান বলেন, জনগণের অভিভাবক জনপ্রতিনিধি, এ কথা সবাই স্বীকার করেন এবং বলে থাকেন। কিন্তু এসব জনপ্রতিনিধিদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। আর এমপিদের হাতে ক্ষমতা না থাকার কারণে জলবায়ু তহবিলের অর্থের অপচয় ঘটছে।

জাপার সংরক্ষিত মহিলা এমপি বেগম মাহজাবিন মোর্শেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির ভয়াবহতা সম্পর্কে আগামী প্রজন্মের স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। কিন্তু এ সংক্রান্ত সিলেবাস এখনো প্রণয়ন করা হয়নি; যার আলোকে জলবায়ুর ক্ষতির কারণ পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে এ বিষয়ে প্রকৃত জ্ঞান না থাকার কারণে জলবায়ুর ক্ষতি মোকাবিলায় আমরা পিছিয়ে রয়েছি।

এনসিসিবির সমন্বয়ক মিজানুর রহমান বিজয় তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বদলে কম ঝুঁকিহীন এলাকায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দের মধ্যে ২১ শতাংশ বরিশালে, ১৯ শতাংশ চট্টগ্রামে, ঢাকায় ১৫ শতাংশ, খুলনায় ৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫ শতাংশ, রংপুর ও সিলেটে ৪ শতাংশ হারে ও ময়মনসিংহে ৩ শতাংশ।

 

"