এক যুগ হলো লাপাত্তা দণ্ডপ্রাপ্ত হারিছ চৌধুরী

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন হারিছ চৌধুরী। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকলেও তার মূল ক্ষমতার উৎস ছিল তারেক রহমান নিয়ন্ত্রিত ‘হাওয়া ভবন’। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর থেকে হারিছ চৌধুরী লাপাত্তা হয়ে যান। আজ পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এমনকি তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও রয়েছে ধোঁয়াশা। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, এস এ এম এস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকান্ড জড়িত থাকার সূত্র ধরে তাকে খুঁজতে থাকে গোয়েন্দা সংস্থা। গত ১২ বছরে তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন, জীবিত না মৃত? কেউ জানে না। অনেকেই বলছেন, হারিছ চৌধুরী জীবিত নেই। হারিছ চৌধুরীর অন্তর্ধান রহস্য যেন রূপকথার এক কল্পকাহিনী।

২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলায় দন্ডিত হয়ে ফের আলোচনায় এসেছেন তৎকালীন বিএনপি সরকারের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা। গত মঙ্গলবার ঘোষিত রায়ে হারিছ চৌধুরীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। বিশিষ্টজনরা বলছেন, হারিছ চৌধুরীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে একই বছরের ২৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে ভারতে পাড়ি জমান হারিছ চৌধুরী। ভারতের করিমগঞ্জে তার মামা বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তিনি।

হারিছ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য মতে, তিনি এখন ভারতের পাঞ্জাবে রয়েছেন। সেখানে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসা করতে গিয়ে নিজের মামা বাড়ি আসামের করিমগঞ্জের ঠিকানা ব্যবহার করেন হারিছ। তবে মাঝেমধ্যেই তাকে লন্ডনে ঘুরতে দেখা যায় বলে সূত্র জানায়। তার স্ত্রী ও সন্তানরাও রয়েছেন দেশের বাইরে। তার স্ত্রী একমাত্র মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে আছেন। সেখানে আইন পেশায় জড়িত মেয়ে। আর ছেলে বর্তমানে নরওয়েতে একটি তেল কোম্পানিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। হারিছ চৌধুরী দেশ ছাড়ার পর ছেলেমেয়েরাও দেশে আসেন না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তার চাচাতো ভাই ফখর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হারিছ কোথায় আমাদের জানা নেই। আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, সে বিষয়েও আমরা কিছু জানি না।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে হারিছ চৌধুরী ছিলেন দোর্দ- প্রতাপশালী। ওই সময়ের আলোচিত ‘হাওয়া ভবন’ এর মদদপুষ্ট এই নেতার দাপটে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাই ছিলেন কোণঠাসা। বড় বড় দুর্নীতিতে জড়িয়ে যায় তার নাম। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগর গ্রামে নিজের বাড়িতে গড়ে তোলেন আরেক ‘হাওয়া ভবন’। প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে অবৈধভাবে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী পুষতে শুরু করেন তিনি। বাড়িতেই ব্যাংকের শাখা, পোস্ট অফিস ও নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে নেন হারিছ চৌধুরী।

২০০৭ সালের পর আর দেখা মেলেনি হারিছ চৌধুরীর। ভারত, যুক্তরাজ্য, ইরান, মালয়েশিয়া এভাবেই ঘুরপাক করতে থাকেন তিনি। হারিছের অবস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে।

 

"