দুঃখ ঘোচেনি জজ মিয়ার দোষীদের শাস্তি চান

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ আগস্ট বিভীষিকাময় গ্রেনেড হামলা নিয়ে সাজানো নাটকের মূল চরিত্র জজ মিয়া। ভয়াল সেই ঘটনা সামনে এলেই সবার মনে প্রশ্ন জাগে কেমন আছেন জজ মিয়া? কীভাবে কাটছে তার দিন? গতকাল মঙ্গলবার আলোচিত সেই জালাল উদ্দিন ওরফে জজ মিয়া জানিয়েছেন, তিনি ভালো নেই। গ্রেনেড হামলার ঘটনা তার জীবন পাল্টে দিয়েছে। স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারেন না তিনি। নাম শুনলেই এড়িয়ে চলে সবাই। সাজানো মামলায় তার নাম জাড়ানোর পর এখন পর্যন্ত সংসার করতে পারেননি জজ মিয়া। তিনি এই নৃশংস গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জজ মিয়া বলেন, দ্রুত রায় কার্যকর হোক সেটাই চাই। তিনি আরো বলেন, সত্য কোনো দিন চাপা থাকে না। যারা আমাকে আসামি করেছিল তারাই এখন সত্যিকারের আসামি। আল্লাহ্ তাদের বিচার করেছে। এ সময় তিনি সরকারের কাছে তার পুনর্বাসনের দাবিও জানান। তিনি বলেন, নামের কারণে আমি আজ সবার কাছে হাসি-তামাশার পাত্র। আমার কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। তারা বলে, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আইলে তুমি আবার জেলে যাইবা।’

বছর তিনেক আগে পরিচয় গোপন করে চাঁদপুরে বিয়ে করেছিলেন জজ মিয়া। কিছুদিন পর পরিচয় জানার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে যায়। সংসারে কোনো অভাব না থাকলেও স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে যায়। সেই থেকে আর সংসার করা হয়নি জজ মিয়ার। কিভাবে দিন কাটছে জানতে চাইলে জজ মিয়া বলেন, কিস্তিতে একটি পুরনো প্রাইভেট কার কিনে নিজেই ড্রাইভিং করে সংসার চালাই। জালাল উদ্দিন ওরফে জজ মিয়া ২১ আগস্ট মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর নোয়াখালীর সেনবাগের ভিটেমাটি ছাড়া হন। গ্রামের জমি-জিরাত বিক্রি করে এখন ভাড়া থাকেন নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায়। সঙ্গে থাকেন বোন ও এক ভাই। জজ মিয়া কিছুটা হতাশার সুরে বলেন, আমার কোনো ঠিকানা নেই, আমি কি এই দেশের নাগরিক না? প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পুনর্বাসনের দাবি জানান।

২১ আগস্টেও গ্রেনেড হামলার মামলায় যখন জজ মিয়াকে ফাঁসানো হয় তখন তার বয়স ছিল ২৫ বছর। গুলিস্তান সিনেমা হলের সামনে পোস্টার ও ক্যাসেট বিক্রি করে জীবিকা চালাতেন তিনি। গ্রেনেড হামলার প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করতে ২০০৫ সালের ১০ জুন নোয়াখালীর সেনবাগের বাড়ি থেকে জজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকা জজ মিয়াকে প্রথমে সেনবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে ঢাকায় এনে নির্যাতন চালায়।

সে সময়ের কথা স্মরণ করে জজ মিয়িা বলেন, গ্রেফতারের প্রায় এক মাস পর তাকে রাজধানীর দক্ষিণখানে নিয়ে গিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তারা বলে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে নিলে লাভবান হবে সে। মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিলে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে তার পরিবারের ব্যয়ভার সামলানোর জন্য টাকা দেওয়া হবে। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তাকে স্বীকারোক্তিমূলক একটি জবানবন্দি মুখস্থ করানো হয়। প্রতি মাসে জজ মিয়ার মাকে দুই থেকে আড়াই হাজার করে টাকাও দেয় পুলিশ। তবে এক পর্যায়ে টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জজ মিয়ার পরিবার পুরো ঘটনাটি ফাঁস করে দেন। আর এ নিয়ে শুরু হয় চাঞ্চল্য। পরে অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।

"