পলাতক ১৮ আসামির ৮ জনের অবস্থান জেনেছে পুলিশ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক ১৮ আসামির মধ্যে ৮ জনের অবস্থান জানতে পেরেছে পুলিশ। আর পাঁচ দেশে ঘুরে ফিরে থাকছেন মামলার অন্যতম আসামি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক বিশেষ সহকারী হারিছ চৌধুরী।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আবদুল কাহহার আকন্দ বলেন, ‘আমরা ইন্টারপোল ও বিদেশে আমাদের মিশনগুলোর সহায়তায় ৮ পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করেছি এবং অপর ১০ পলাতক আসামির অবস্থান জানার চেষ্টা করছি।’

সূত্র অনুযায়ী, মাওলানা তাজউদ্দীন ও তার ভাই রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে, সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবে, সাবেক মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন ও লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার দুবাইতে, দুই ভাই হরকাতুল জিহাদ নেতা মহিবুল মুত্তাকিন ও আনিসুল মোরছালিন রয়েছে ভারতের তিহার জেলে।

সূত্র জানায়, হারিছ চৌধুরী মালয়েশিয়ায়, লন্ডন, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে যাতায়াতের মধ্যে রয়েছেন। তবে তৎকালীন উপপুলিশ কমিশনার খান সায়ীদ হাসান ও ওবায়দুর রহমান খান, হুজি নেতা মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বাদল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মো. ইকবাল, মুফতি শফিউর রহমান (ভৈরব) ও মুফতি আবদুল হাই এবং হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফের অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

এই মামলার চার্জশিট দাখিলের পরপরই খান সায়ীদ হাসান ও ওবায়দুর রহমান খানকে জরুরি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া মাওলানা তাজউদ্দীনকে ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, তারেক রহমানকে একই বছরের ১৩ এপ্রিল, হারিস চৌধুরীকে ৩১ নভেম্বর এবং রাতুল বাবুকে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জরুরি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ইন্টারপোলের জরুরি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ মাওলানা তাজউদ্দীনকে গ্রেফতার করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু তিনি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা মোকাবিলা করছেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘আদালত তাদের (১৮ অভিযুক্তকে) পলাতক ঘোষণা করেছেন এবং অপর ৩১ জন জেলে রয়েছে, তাছাড়া তিনজনের ফাঁসি হয়েছে।’

অন্য মামলায় যে তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি আবদুল হান্নান ও অপর জঙ্গি নেতা শহিদুল আলম বিপুল।

"