জাতিসংঘ অধিবেশন

বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু শেখ হাসিনা

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সদর দফতরে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সব পরিস্থিতিতে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলতে বিশ্ব নেতাদের আহ্বান জানান। এছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী শান্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আশ্রয় দেওয়া রোহিঙ্গাদের বিশেষ করে শিশুদের মানসিক আঘাত লাঘবে এবং সামাজিক প্রয়োজন মেটানোর ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উপস্থিত বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাদের অনেকেই টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অভিনন্দিত করেন। তারা উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে থাকেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত রোববার নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিনই তিনি নিউইয়র্কে প্রবাসীদের দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের সংবর্ধনায় প্রবাসীদের যেকোনো সময়ের উপস্থিতির রেকর্ড ভেঙেছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয় সময় সোমবার খুব সকাল থেকে নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একদিনেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যর্থনাসহ জাতিসংঘের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেন। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয়দানের ঘটনায় বিশ্বনেতারা শেখ হাসিনার মহানুভবতার ব্যাপক প্রশংসা করেন।

রোহিঙ্গা শিশুদের বিষয়ে মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টি বক্তব্যে গুরুত্ব পাওয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের বিষয়ে তার মহানুভবতার কথা উল্লেখ করেন। জাস্টিন ট্রুডো বলেন, কানাডা সরকারও সাধ্যমতো রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং দিচ্ছে। অন্য দেশগুলোও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন।

সোমবার সকালে জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাবের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক : এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক এক বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা উল্লেখ করেন, যা বিশ্বনেতাদের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। বিশ্বনেতারা ব্যাপক করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়কমন্ত্রী জেরেমি হান্ট সোমবার নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতেও গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের বিষয়ে শেখ হাসিনার মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ব্রিটিশ মন্ত্রী। তিনি এ সময় রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে সমস্যা কোথায় তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান।

সোমবার জাতিসংঘের সদর দফতরে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সম্মেলনে তিনি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী শান্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন অংশে জীবন রক্ষা করছে। শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করে বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আমাদের নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উপস্থিত বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাদের অনেকেই টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অভিনন্দিত করেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের একটি সূত্র জানায়, অন্যবারের চেয়ে এ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্ববাসীর কাছে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গভীরভাবে তুলে ধরছেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের পর তাদের বাসস্থান, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রতি সরকার যে মানবিক নজর দিচ্ছে সে বিষয়টিও উল্লেখ করছেন প্রধানমন্ত্রী। একইভাবে বিশ্বনেতারা তাদের বক্তব্যে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তার প্রশংসা করে বাংলাদেশকে সব রকম সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে দিতে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। গত বছর ৭২তম অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এরপর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে।

"