বর্তমান সরকারের অধীনেও নির্বাচনে যেতে রাজি

ড. কামাল

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বর্তমান সংবিধানিক কাঠামো এবং ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন গণফোরামের ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন।

এ বিষয়ে তিনি জানান, তাদের নবগঠিত জোটের শরিকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। এটি শুধুই তার দলের অবস্থান।

বিবিসিকে ড. কামাল হোসেন জানান, তাদের এই জোট কোনো নির্বাচনী জোট নয়। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই শুধু তারা একজোট হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য জোট করেছি। যে কারণে এটা দ্রুত করা সম্ভব হয়েছে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এটা একটা সিম্পল প্রভিশন। আমি মনে করি সবাই এটা বলতে দ্বিধা করবেন না। তবে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমরা বসে নেইনি।’

তিনি বলেন, বলা হচ্ছে তারা যেগুলো আইনে আছে, এগুলো মেনে চলবেন। যদি দেখা যায় যে, তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছেন বা কোনো প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন। তখন এটা দৃষ্টি এলে প্রথমে তো আপত্তি করা হবে যে, এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। এরপরও অন্যপক্ষ যদি দেখেন যে রীতিনীতি না মেনে এটা করা হচ্ছে। তখন তো নির্বাচন বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে।’

নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে ড. কামাল উল্লেখ করেন, যারা সরকারে থাকবে, নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে তাদের দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। ‘বিভিন্ন দলের নেতারা যারা আছেন তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করব না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেব, তখন আমরা ধরে নিতে পারি সরকারের পক্ষে বা আমাদের পক্ষে যারা ওথ (শপথ) নিয়ে কথাগুলো বলবেন, তাদের তো ন্যূনতম একটা দায়িত্ববোধ থাকবে।’

‘নির্বাচন কমিশন এটা রেফারি হিসেবে পরিচালনা করবে। কেউ যদি নিরপেক্ষতা থেকে সরে যায় তারা সেটা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এগুলো তো ইলেকশন আইনেই আছে।’

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে গত শনিবার এই জোটের প্রথম যে সমাবেশ হয়, সেখান থেকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেসব দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী ধরনের পূর্বশর্ত তারা সরকারকে দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘ভোটার লিস্ট নিরপেক্ষভাবে করতে হবে। ভোটার লিস্ট অনুযায়ী সবার ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

"