ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল চায় সুজন

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল করে এটি পুনঃসংশোধনের দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। গতকাল সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সুজন মনে করে এই আইনটির অনেক ধারা (৮, ২৮, ২৯, ৩১) নিবর্তনমূলক, যে ধারাগুলোর ব্যাপক অপব্যবহার হতে পারে বিশেষ করে নাগরিকদের হয়রানি ও কণ্ঠরোধ করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

‘এই আইনে পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই পুলিশের হাতে যে কাউকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই এই আইনকে অপব্যবহার করে পুলিশ সাধারণ নাগরিকদের হেনস্তা করতে পারে বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া এই আইনের ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অন্তর্ভুক্ত করায় দুর্নীতি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও আমরা মনে করি।’

বিবৃতিতে সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান ও সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে বিগত ৬ বছরে শত শত লোককে জবরদস্তিমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সে আইনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। এই কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হওয়ার আগে বিভিন্ন মহল থেকে নানা পরামর্শ ও দাবি তুলে ধরা হয়েছিল কিন্তু সরকার সেগুলো পুরোপুরি আমলে নেয়নি। বরং বাতিল হওয়া তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কয়েকটি (২৫, ২৮, ২৯ ও৩১) ধারায় ভাগ করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৫৭ ধারাকে ভেঙে, কিছুটা নতুন শব্দচয়ন করে, ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা শাস্তি কমিয়ে, প্রায় অবিকলভাবে নতুন আইনে রাখা হয়েছে।’

সুজন মনে করে, যেকোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে মত দ্বিমত থাকতেই পারে। তাছাড়া আমাদের আইন ও সংবিধান যেখানে নাগরিকের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা তথা বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এই ধরনের নিবর্তনমূলক আইনপ্রণয়ন হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।

‘আমরা মনে করি, এই আইনটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এটি দেশে গণতান্ত্রিক পরিসরকে সঙ্কুচিত করবে, নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা হরণ করবে এবং নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাবোধ সৃষ্টি করবে। আমরা ‘সুজন’ এর পক্ষ থেকে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করে আইনটি পুনঃসংশোধন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে এই বিলে স্বাক্ষর না করে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানোনো হয় সুজনেরও ওই বিবৃতিতে।

"