ফের আফগান পরীক্ষা আজ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

ইনজুরি, আরব আমিরাতের প্রতিকূল কন্ডিশনের সঙ্গে কান্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিং। এই তিনে মিলে নাজেহাল অবস্থা বাংলাদেশ দলের। পর পর দুটি ম্যাচে বিবর্ণ ছিলেন মাশরাফি-সাকিবরা। যা কার্যত সুতোয় ঝুলিয়ে দিয়েছে এশিয়া কাপে টাইগারদের ভাগ্য। টানা তৃতীয়বার ফাইনালে যেতে আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় অগ্নিপরীক্ষা দিতে হচ্ছে মাশরাফিদের।

এই দলটার কাছেই এই তো সেদিন আবুধাবিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচটা অবশ্য অর্থহীন ছিল। নিয়মরক্ষার সেই লড়াইয়ে টাইগারদের ব্যাটসম্যানদের অগ্নিপরীক্ষা নিয়ে ছেড়েছে আফগান বোলাররা। মুজিব উর রহমান ও রশিদ

খানদের ঘূর্ণিতে নাকাল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লড়াই দূরে থাক, আফগান যোদ্ধাদের সামনে মাথা তুলেই দাঁড়াতে পারেননি লিটন-সাকিবরা। যার মূল্য দিতে হয়েছে ১৩৬ রানের বিশাল হার দিয়ে।

সেই হারের ধকলটা কাটিয়ে উঠতে ১২ ঘণ্টাও সময় পায়নি বাংলাদেশ দল। আবুধাবি থেকে দুবাই ফিরেই কাঠফাঁটা রোদে নেমে পড়তে হয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ভেন্যু এবং টুর্নামেন্টের ধাপ বদলালেও টাইগার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংটা আর বদলালো না। ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচেও ধসে পড়লে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার।

আফগান ম্যাচে কোনো রকম দলীয় সংগ্রহে তিন অঙ্ক ছোঁয়া মাশরাফিরা এদিনও শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি ভারতকে। বাংলাদেশকে ১৭৩ রানে বেঁধে দিয়ে সেটা হেসেখেলেই জয় করেছে রোহিত শর্মারা। শুধু বাজে ব্যাটিংই নয়, টাইগারদের শারীরিক ভাষাতেও ফুটে উঠেছিল অসহায়ত্ব।

হার-জিত ম্যাচেরই অংশ। কিন্তু বাংলাদেশ দলকে ভাবাচ্ছে হারের ধরণ। যেখানে আগের দুই ম্যাচে ন্যূনতম লড়াইটুকু করতে পারছে না বাংলাদেশ সেখানে এখানো স্বপ্ন দেখে যাচ্ছেন অধিনায়ক মাশরাফি। অতীতে এরকম কঠিন পরিস্থিতি থেকে টাইগাররা প্রত্যাবর্তন করেছে বলেই প্রেরণা খুঁজে নিচ্ছেন তিনি।

ভারত ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এখনো সম্ভব (ফাইনালে যাওয়া)। এই অবস্থা থেকে ফেরা সম্ভব। আমার মনে হয় আর আমার মনে হয় এত হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তবে দুই ম্যাচ খুব হতাশার। আজও (শুক্রবার) ব্যাটিং ভুগিয়েছে। কিন্তু এখানো সুযোগ আছে আমাদের। যদি আফগানিস্তানকে হারাতে পারি তাহলে পাকিস্তানের ৫০-৫০ সুযোগ থাকবে।’

এই সুযোগ এবং আশা বাঁচিয়ে রাখতেই আজ আফগানদের বিপক্ষে মরণকামড় দিতে হবে বাংলাদেশকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রশিদ-নবিদের সঙ্গে আবুধাবির প্রতিকূল কন্ডিশনে টাইগাররা পেরে উঠবে তো? সাম্প্রতিক বছর ধরে যে বাংলাদেশকে পেয়ে বসেছে আফগান ‘জুজু’। টি-টোয়েন্টি কিংবা একদিনের ক্রিকেট ফরম্যাট যেটাই হোক মাশরাফি-সাকিবদের নাভিঃশ্বাস উঠিয়ে ছেড়েছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি।

অবশ্য বাংলাদেশ যতটানা ভাবছে আফগানিস্তান দল নিয়ে তারচেয়েও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছেন রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান। এই দুই স্পিনারের কাছেই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এতদিন বল হাতে অগ্নিরূপ ধারণ করা রশিদ তো সেদিন ব্যাট হাতে কচুকাটা করেছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের।

অথচ আফগানরা ২০০ করতে পারবে কিনা তা নিয়েই জেগেছিল সংশয়। সেই দলটার সংগ্রহ ২৫০ ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন রশিদ ও গুলবাদিন নাইবের বিধ্বংসী ব্যাটিং। তার আগে মাশরাফি-মুস্তাফিজদের ভুগিয়েছেন হাসমতউল্লাহ। সøগ ওভারের নির্বিষ বোলিংই মূলত আফগান ম্যাচে ছিটকে দিয়েছিল টাইগারদের।

কিন্তু বোলার নয়, এশিয়া কাপে কাঠগড়ায় শুধু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এই ব্যর্থতার জাল ছিড়ে বেরুতে দেশ থেকে মরুর দেশে উড়িয়ে আনা হয়েছে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস। আজ একাদশে ঢুকে পড়বেন এদের যেকোনো একজন। দুইজনই মাঠে নেমে পড়লে সেটাও বিস্ময়কর কিছু হবে না। বাংলাদেশের টপ অর্ডারের যা অবস্থা, কার যে কখন সুযোগ হয় বা কপাল পুড়ে কার্যত বলা মুশকিল।

"