সংসদে সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী

দেশ ও জাতির কল্যাণে ডিজিটাল আইন

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দেশ ও জাতির কল্যাণে এই আইন করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ব্যাপক সমালোচিত ৫৭সহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হওয়ার পর দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি না আমাদের সাংবাদিকরা কেন এত বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠছে? তারা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে কেন? কী কারণে? এর কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে মনে করি না।

সম্পাদকদের প্রতিক্রিয়ার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তারা কেবল তাদের কণ্ঠরোধ হলো কিনা, সেটাই দেখেন। তাদের কণ্ঠ তো রোধ হয়নি। কণ্ঠ আছে বলেই তারা মতামত দিতে পারছেন। রোধ করলে তো মতামত দেওয়ার মতো ক্ষমতাও থাকত না। কণ্ঠটা রোধ কোথায়?

সামরিক শাসনামলে এবং সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এদেশে মার্শাল ল’ ছিল, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ছিল। যারা তাদের পদলেহন করেছে, তোষামোদি করেছে, তাদের অসুবিধা হয়নি। কিন্তু যারা তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে, তাদের অসুবিধা হয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা শুধু তাদের সাংবাদিকতার বিষয়টি দেখল। সাংবাদিকতা হবে গঠনমূলক। সাংবাদিকতা সমাজের জন্য, দেশের জন্য, মানুষের জন্য থাকবে দায়িত্বশীল। নিশ্চয়ই সাংবাদিকতা সংঘাত বাড়ানোর জন্য হবে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করবে না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে উসকে দেবে না।

আইনটি করার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সবাই ভোগ করুক, কুফল থকে দূরে থাকুক। সেই লক্ষ্য নিয়ে এই আইন পাস হয়েছে। এখানে শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখলেই হবে না। আমরা আইনটি করেছি দেশ ও জাতির কল্যাণে। মানুষকে নিরাপত্তা আমাকে দিতে হবে। সমাজকে রক্ষা করতে হবে। সংসারকে বাঁচাতে হবে। মানুষের চরিত্র বাঁচাতে হবে। সেই বিবেচনা করে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস করেছি। এখানে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

সমাজ ও দেশের স্বার্থে এই আইনটির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট ডিভাইসে যেমন বিশ্বটা হাতের মুঠোয় তেমনি এর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা ধরনের অসামাজিক বিষয়গুলোও চলে আসে। এখানে নানা ধরনের গেমস আছে। অনেক সময় ছোট ছেলেমেয়েরা বা যুবক শ্রেণি এমন বিষয় দেখে, যা সমাজে অশুভ বার্তা বয়ে আনে। সেটা অশ্লীল বা একেবারেই অসামাজিক, কুরুচিপূর্ণ। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসী এ ধরনের নানা বিষয় চলে আসে। এখানে এমনভাবে অপপ্রচার হয় যাতে পারিবারিক কোন্দলও সৃষ্টি হয়। নানা রকমের অঘটনও ঘটে। শিশু থেকে যুবক পর্যন্ত এডিকটেড হয়ে পড়ে। মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলে বিপথে চলে যায়, আত্মহত্যা করে, অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা সমাজ ও সংসারের জন্য বিরাট বোঝা হয়ে যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের বর্তমান অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অন্য বিলগুলোর কথা তুলে বলেন, সামাজিক সমস্যা দূর করতে অনেক বিল পাস করেছি।

কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রের ভিত্তিটা শক্তিশালী ও মজবুত করেছি। যারা গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী দেখেন না, নড়বড়ে দেখেন, আসলে তাদেরই নড়বড়ে অবস্থা। তারা সবসময় একটি দিকে তাকিয়ে থাকে, কখন কিছু ছিঁড়ে পড়বে, ওই আশায় বসে থাকে। কিন্তু দেশের জনগণের প্রতি আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে। সাধারণ মানুষ ঠিকই বোঝে।

"