পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে জিতল ভারত

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রিন্স রাসেল দুবাই থেকে

তীব্র দাবদাহে শরীর পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। দুবাইর ভর দুপুরে তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। কাঠফাটা এই রোদ মাথায় নিয়ে গ্যালারিতে জড়ো হয়েছিলেন ভারত ও পাকিস্তানের সমর্থকরা। সূর্যের তাপ ও আগুন গরম এই দুইয়ে মিলে গ্যালারিতে থাকা ক্রিকেট পাগলদের শারীরিক ও মানসিক শক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে হয়েছে। দুবাইর নিষ্প্রণ লড়াইয়ে এর চেয়েও বড় পরীক্ষা দিতে হলো পাকিস্তানকে।

কাল ভারতের আগ্রাসী বোলিংয়ের কাছে রীতিমতো নাকাল হলো সরফরাজ বাহিনী। আগেই আনুষ্ঠানিক ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়ে যাওয়া মহারণটাও শেষ হলো বড্ড এক তরফাভাবে। ঘুমপাড়ানি এই ম্যাচে ভারত জিতল ২১ ওভার ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই। অথচ ম্যাচটা জমজমাট লড়াই উপহার দেবে, উত্তেজনার রেণু ছড়াবে এমনটাই ভেবে নিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু ভাবনার সঙ্গে বাস্তবতার বিন্দুমাত্রার লেশ থাকল না। প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের কাছে অগ্নিপরীক্ষার পর কী দারুণভাবেই না জয় তুলে নিল ভারত। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলেই শেষ হয়েছে পাকিস্তানের ইনিংস। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই ভারতের বোলিং আগুনে পুড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। ৪১ বল বাকি থাকতে পাক শিবিরকে ১৬২ রানে গুটিয়ে দিয়েছে রোহিত শর্মার দল! সংগ্রহটাকে আরো মামুলি বানিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে ভারত। অবশ্য এই জয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের যে খুব একটা লাভ হয়েছে তা কিন্তু নয়। পাকিস্তানের বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। আত্মবিশ্বাসেই যা কিছুটা চিড় ধরেছে। গ্রুপ পর্বের নিয়মরক্ষার ম্যাচ বলেই কিনা ফল নিয়ে আগ্রহও থাকল না।

সহজ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ভিতটা গড়ে দিয়েছেন ভারতের উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। ৮৬ রানে প্রথম জুটি বিচ্ছিন্ন করে পাকিস্তানকে স্বস্তি এনে দেন সাদাব খান। ভারত অধিনায়কের স্টাম্প উপড়ে ফেলেন তিনি। রোহিত ফিরেছেন ৩৯ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। ইনিংসে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই ওপেনার।

তবে রোহিত হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেও ৪ রান দূরত্বে ফিরতে হয়েছে ধাওয়ানকে। তার ঘাতক ফাহিম আশরাফ। ভারতীয় ওপেনারের ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও একটি ছক্কার মার। ১০৪ রানে ভারতের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরে গেছেন ধাওয়ান। ভারতের শুরুর দুই ব্যাটসম্যানের প্রস্থানটা পাকিস্তানের হারটাকে শুধু বিলম্বিত করেছে এই যা। আম্বাতি রাইডু ও ডিনেশ কার্তিক অনায়েসেই ভারতকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। রাইডু এবং কার্তিক দুজনই সমান ৩১ রানে অজেয় ছিলেন।

অবশ্য দিনের প্রথম লড়াইয়ে হেসেছিল পাকিস্তান। মুদ্রা নিক্ষেপের সুবিধা নিজেদের অনুকূলে নিয়ে সতীর্থদের হাতে ব্যাট তুলে দেন পাক সেনাপতি সরফরাজ আহমেদ। নির্ভেজাল ব্যাটিং উইকেটে পাকিস্তানের আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটা কতটা যৌক্তিক ছিল প্রশ্নটা উঠতে সময় লাগল না। ম্যাচটা ঠিকঠাক শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তান হারিয়ে বসেছে দুই ওপেনার ইমাম উল হক ও ফখর জামানকে। ৩ রানে ২ উইকেট খুইয়ে রীতিমতো কাঁপছে পাকিস্তান। শুরুতেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের টুঁটি চেপে ধরেন ভুবনেশ্বর কুমার। পাকিস্তানের নবম উইকেটটাও নিয়েছেন ভারতীয় এই পেসার।

শুরুর মতো পাকিস্তানের ইনিংসের শেষটাও হলো এলোমেলো। শেষ চার রানে ৩ উইকেট খুইয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। শুরুর ধাক্কাটা পাকিস্তান অবশ্য সামলে নিয়েছিল বাবর আজম ও শোয়েব মালিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায়। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে ৮২ রানের এই জুটি ভাঙতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস। হাফ সেঞ্চুরির আভাস দিয়েও ফিরে গেছে বাবর ও শোয়েব। ব্যক্তিগত ৩ রানে ক্যাচ তুলে বেঁচে যাওয়া শোয়েব সাজঘরে ফিরেছেন রান আউটের ফাঁদে পড়ে।

ফেরার আগে ৪৩ রান করেছেন পাকিস্তানি তারকা অলরাউন্ডার। তার সঙ্গী বাবর ফিরেছেন তারও কিছুক্ষণ আগে। ৩ রানের জন্য অর্ধশতক বঞ্চিত হয়েছেন বাবর। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ২১ রানের ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ ১৫০ পার করে দিয়েছেন। ১৮ রানে অজেয় থেকেই উইকেট ছাড়তে হয়েছে মোহাম্মদ আমিরকে।

টপ অর্ডারে পাকিস্তানের ধস নামিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার। পাক বাহিনীর মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন কেদার যাদব। ভুবনেশ্বরের সমান ৩টি উইকেট শিকার করেছেন তিনিও। ২টি শিকার পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর। অন্য ১টি উইকেটের মালিক কুলদ্বীপ যাদব। বোলাররা তাদের কাজটা করেছেন। ভারতের টপ অর্ডারও সুন্দর একটা সমাপ্তি টেনেছে। এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আগামীকাল একই মঞ্চে বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভারত। একই দিন আবুধাবি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

পাকিস্তান : ১৬২ (৪৩.১ ওভার)।

ভারত : ১৬৪/২ (২৯ ওভার)।

ফল : ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।

"