‘সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি’

অসুস্থ হলে পাসপোর্ট একদিনেই

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে দেশের বাইরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেন। কিন্তু পাসপোর্টতো নেই। আজ করতে দিলেও কমপক্ষে সাত দিন সময় লাগবে। এখন সমাধান? মানুষের এসব জরুরি প্রয়োজনকে মাথায় রেখে এবার একদিনে পাসপোর্ট ডেলিভারির ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর। তবে এজন্য গুনতে হবে বাড়িত টাকা।

সাধারণত ৩ হাজার ৪৫০ টাকা ফি দিয়ে একজন আবেদনকারী কমপক্ষে ২১ দিনে এবং ৬ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে সাত দিনে পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ‘সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি’ ব্যবস্থায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হতে পারে। আবার ফির পরিমাণ ১২ হাজারও হতে পারে।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে ই-পাসপোর্টের সঙ্গেই চালু হবে নতুন এই ডেলিভারি ব্যবস্থা। তবে শুধুমাত্র পুরাতন আবেদনকারী, মেয়াদোত্তীর্ণের কারণে রি-ইস্যু এবং যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে না, তারাই একদিনের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের জন্য পাসপোর্ট অধিদফতরের নির্ধারিত ‘রি-ইস্যু, তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন আবেদন’ ফরমটি পূরণ করে জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ‘অধিদফতরে ই-পাসপোর্ট নিয়ে গঠিত একটি কমিটি সাধারণ ও জরুরির পাশাপাশি ‘সুপার এক্সপ্রেস’ নামে নতুন এক ধরনের ডেলিভারির প্রস্তাব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে আজকে জমা দিলে পর দিন পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশেই পাসপোর্টের সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি দেয়া হয়। যাদের পাসপোর্ট পাওয়া খুবই জরুরি, তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই ব্যবস্থায় পাসপোর্ট নিয়ে থাকেন।’

তিনি বলেন, ‘যাদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের দরকার নেই, আগের পাসপোর্ট আছে তারাই কেবল এ ধরনের ডেলিভারি পাবে। অনেক প্রবাসী শ্রমিক আছে যারা এয়ারপোর্টে গিয়ে দেখে তার পাসপোর্টের মেয়াদ নেই অথচ একদিন পর গেলেই তাদের চাকরি থাকবে না তাদের জন্যই এমন ব্যবস্থা।’

কত হচ্ছে সুপার এক্সপ্রেসের ফি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে শুধুমাত্র সুপার এক্সপ্রেসের প্রস্তাব করেছি, ফিটা এখনো প্রস্তাব করিনি। তবে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হতে পারে। আবার ফির পরিমাণ ১২ হাজারও হতে পারে।’

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হচ্ছে ১০ বছর। এ পাসপোর্টের দুই ধরনের ক্যাটাগরি হচ্ছে। একটা ৪৮ পৃষ্ঠার অপরটা ৭২ পৃষ্ঠার। যারা বেশি পৃষ্ঠারটা নিতে চান তাদের ফিটা একটু বেশি দিতে হবে।

এ বিষয়ে শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ‘পাসপোর্টের মেয়াদ যেহেতু ১০ বছর হচ্ছে এবং পাতাও বাড়ছে, তাই সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য ৬ হাজার এবং এবং এক্সপ্রেস (জরুরি) ই-পাসপোর্টের জন্য ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হবে। এটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এক্সপ্রেস ও সাধারণ ই-পাসপোর্ট পাওয়ার সময় একই থাকছে।’

"