প্রজ্ঞাপন না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

ছাত্রলীগের পাল্টা আনন্দ মিছিল

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না করলে এবার বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মিছিল পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ হুশিয়ারি দেন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নূর। অন্যদিকে, সরকারের সুপারিশকে স্বাগত জানিয়ে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে পাল্টা মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় দুটি মিছিল পাশাপাশি চলতে দেখা যায়।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর, বিন ইয়ামিন মোল্লাসহ প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশে নূর বলেন, আমরা শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। এ সময় ৪০তম বিসিএস বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবি জানান তিনি। হাসান আল মামুন বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব কর্তৃক যে সুপারিশ করা হয়েছে আমরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। পাশাপাশি তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে যে কোটা প্রথা রয়েছে, তার যৌক্তিক এবং সহনীয় সংস্কার চাচ্ছি।

তিনি বলেন, কোটা না রাখার যে সুপারিশ করা হয়েছে তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে সেটার বাস্তবায়ন করতে হবে। ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে যে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনের আগেই সেগুলো প্রত্যাহার করে নিতে হবে। ছাত্রদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তারা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

এর আগে আন্দোলনকারীরা ঢাবির বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে আন্দোলনকারীদের মিছিলে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলন করতে পারেন। আজ ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচি ছিল না। তবে নেতৃত্বদানকারীরা ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের পদাধারী ছিলেন বলে জানা যায়।

এদিকে, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কোটা আন্দোলনকারীরা পূর্বকর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সরকারের সুপারিশকে স্বাগত জানিয়ে পাল্টা আনন্দমিছিল বের করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় দুটি মিছিল পাশাপাশি চলতে দেখা গেছে।

"