পুলিশের তথ্য

দেবর-ভাবির অনৈতিক সম্পর্কের জেরে মুনির হত্যা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের মনিরুজ্জামান মনির নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার স্ত্রী কাজল। আর সে পরিকল্পনা ঢাকার সাঁতারকুলে বাস্তবায়ন করে তার দেবর আজমল হক মিন্টু। তাদের অনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এ ঘটনা ঘটায় তারা। এজন্য এক লাখ টাকায় তিন ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে মনিরকে হত্যা করা হয়েছে। মনিরকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের পর গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানের উপপুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ। স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে

গত শুক্রবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন স্ত্রী কাজল। এ হত্যাকা-ে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত ৮ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানাধীন সাঁতারকুলের মেরুল হিন্দুপাড়ার রাম মঙ্গলের বাড়ির পাশে খোলা মাঠ থেকে মনিরুজ্জামান মনিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। অজ্ঞাত অবস্থায় পড়ে থাকা মরদেহটিকে শনাক্ত করেন আজমল হক মিন্টু। এরপর বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন মিন্টু। তবে পুলিশের দৃষ্টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘুরিয়ে দিতে এটা ছিনতাইকারীদের কাজ বলে ধারণার কথা জানান তিন। তবে এ মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ নিহত মনিরের স্ত্রী কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা এবং নিজে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন কাজল। শুক্রবার আদালতে এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ আট বছরের অনৈতিক সম্পর্কের একপর্যায়ে মিন্টু বিয়ের প্রস্তাব দেয় কাজলকে। কিন্তু দুই সন্তানের জননী কাজলের জন্য বাধা ছিল তার স্বামী মনির। এ কারণে মনিরকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। আর সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন মিন্টু। ভাবির কথা শুনে বড় ভাই মনিরকে হত্যা করতে তিন ভাড়াটে খুনির সঙ্গে এক লাখ টাকার চুক্তি করেন ছোট ভাই মিন্টু। নিহত মনিরের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে।

এরপর তার দেওয়া তথ্য এবং জবানবন্দির ভিত্তিতে গত শুক্রবার রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছোট ভাই আজমল হক মিন্টুসহ চারজনকে গ্রেফতার করে বাড্ডা থানা পুলিশ। গ্রেফতার অন্যরা হলেন আব্দুল মান্নান, সোহাগ ওরফে শাওন, ফাহিম।

ডিসি মোস্তাক বলেন, মনির ফেনীতে কাজ করতেন। তবে তার পরিবার থাকত গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। সম্প্রতি তিনি বাড়ি যান। তখনই হত্যার পরিকল্পনা করেন ঘাতক। মিন্টু তার বড় ভাই মনিরকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমি বিয়ে করব, তাই ঢাকায় মেয়ে দেখেছি, তুমি এসে দেখে যাও। এতে মনির রাজি না হওয়ায় বারবার অনুরোধ করতে থাকেন মিন্টু। তার স্ত্রী কাজলও ঢাকা যাওয়ার জন্য তাকে বলেন। মনির দিনাজপুর থেকে ঢাকার গাবতলী আসেন। ঢাকা শহর ভালোমতো না চেনায় ছোট ভাইকে ফোন দিলে মিন্টু মান্নানের ফোন নম্বর দেয় এবং মান্নান তাকে নিয়ে আসবে বলে জানান।’

তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী মান্নান বাড্ডা সাঁতারকুলের নির্জন ওই স্থানে মনিরকে নিয়ে যান। এ সময় ভাড়াটে খুনি শাওন ও ফাহিম সেখানে উপস্থিত হন। তাদের হাতে ছুরি ছিল। এই ছুরি দিয়ে মনিরের গলায় প্রথমে ফাহিম, এর পরপরই মান্নান আবারও আঘাত করেন। মনির মাটিতে পড়ে যান। এরপর তাদের নির্দেশমতো শাওন ছুরি দিয়ে মনিরের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর হত্যাকান্ডের বিষয়টি মিন্টুকে জানান মান্নান। এরপর মিন্টু বিষয়টি তার ভাবি কাজল রেখাকে জানান। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, কিলিং মিশন শেষে চুক্তির অগ্রিম পাওয়া ৩০ হাজার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় খুনিরা। এই টাকার মধ্য থেকে মান্নান নেয় ১০ হাজার টাকা, ফাহিমকে দেওয়া হয় ৫ হাজার এবং বাকি ১৫ হাজার টাকা নেয় শাওন।

ডিসি মোস্তাক আরো জানান, তিন ভাড়াটে খুনি থাকত কড়াইল বস্তিতে। তাদের ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ৭০ হাজার টাকা পরে দেবে বলে জানিয়েছিল মিন্টু। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

"