ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রধানমন্ত্রী

পাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে দেশকে গড়তে হবে

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কী পেলাম, না পেলাম; সেই চিন্তা না করে আগে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের আগামী দিনের প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায়; সেই লক্ষ্য নিয়েই নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।’ গতকাল শনিবার ঢাকায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) তিন দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক বছর আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে। ৭৫ থেকে ৯৬Ñ ২৫টা বছর হারিয়ে গেছে। এই ২৫টা বছর প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কোনো উন্নতিই হয়নি। উন্নতি হয়েছে ক্ষমতাসীনদের ঘিরে কয়েকটি মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর। বৃহৎ জনগোষ্ঠী কিন্তু বঞ্চিত ছিল। এই বঞ্চিত মানুষকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।’

প্রধানমন্ত্রী তার ২৫ মিনিটের বক্তব্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল অ্যালবামে স্বাক্ষর করে ‘গ্লোবাল কম্পিটিটিভ টিভিইটি (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) ফর চ্যালেঞ্জেস অব আইআর (ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলিউশন) ৪.০’ শীর্ষক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান বজায় রাখার দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা, মিল-কারখানা নির্মাণ ও স্থাপনের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীদের কাজের গুণগত মানের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কাজের গুণগত মান বজায় থাকে, সেজন্য আপনারা দৃষ্টি দিয়ে থাকেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিকল্পনা নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিনিয়ত আমাদের যেমন ভূমিক্ষয় হয়, নদী ভাঙনে নতুন নতুন চরও জাগে। কাজেই এদিকে লক্ষ রেখেই আমাদের পরিকল্পনা নিতে হয়।’

গত সাড়ে ৯ বছরে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫০০ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইউনিভার্সিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ডিপোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ডাবল শিফট চালু করা হয়েছে।

সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আসন সংখ্যা ২৫ হাজার থেকে ১ লাখে উন্নীত করতে প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একটি করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ, ওয়ার্কশপ-ল্যাব প্রতিষ্ঠা ও যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং শিক্ষক-কর্মচারীর প্রায় সাত হাজার পদ সৃষ্টির জন্য ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’ প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চারটি সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ও ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক স্থাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ আমরা করব। ইতোমধ্যে ১০০টির কাজ শুরু করা হয়েছে।’

দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে সফল হয়েছি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে আমরা এসডিজির বিভিন্ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনেও আমরা সফল হব, ইনশাআল্লাহ।’

আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান। এর আগে বাংলাদেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বানানো রোবট ‘টিভিইটি’ প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চে স্বাগত জানায় এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়।

"