দুবাইতে টাইগারদের লঙ্কাবধ

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক, দুবাই থেকে

কাল দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামকে মনে হলো এক টুকরো বাংলাদেশ। হাজার হাজার প্রবাসী বাঙালি সাকিব-তামিমদের ক্রিকেট নৈপুণ্য দেখার জন্য ছুটে এসেছেন দুবাইয়ে। টাইগারদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য চিৎকার করে গেছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনিতে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও নিরাশ করেনি সমর্থকদের। এশিয়ান কাপ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে লঙ্কানদের ১৩৭ রানে হারিয়েছে টাইগার বাহিনী।

প্রতিপক্ষটা কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা বলেই বাড়তি উত্তেজনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল মাশরাফিরা। প্রতিশোধের একটা স্পৃহা ছিল সবার মধ্যে। কিন্তু ম্যাচের আগেই মাশরাফি-তামিম জানিয়েছিলেন, প্রতিশোধ নয় বরং প্রতিটি ম্যাচ জয়ই তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। তাই চোখটা এখন সুপার সিক্সে রাখতেই পারে বাংলাদেশ। অথচ দিনের পূর্বাভাস অন্যকিছুর আভাস দিচ্ছিল। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ড্রেসিংরুমে সবাই একটু গা এলিয়ে বসেছে। কিন্তু একটু আরাম করার সুযোগ পেল না। স্কোর বোর্ডে ১ রান জমা হতেই উইকেটের পাশে লেখা উঠল ২! এ যেন চিরাচরিত সেই বাংলাদেশ। লাসিথ মালিঙ্গার বুড়ো হাড়ের ভেলকিতে রানের খাতা না খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাস ও সাকিব আল হাসান। সঙ্গে যোগ হন তামিম ইকবাল। ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায় মালিঙ্গার বলে চোট নিয়ে অবসরে যান তামিম। তবে এই তামিমই কালকে অন্য এক বাংলাদেশকে চিনিয়েছেন বিশ্ব দরবারে। আঙুলে চোট নিয়েও বসে থাকতে পারেননি। শেষ উইকেটের ৪৭তম ওভারে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে সাহসের পরিচয় দিতে ঝুঁকি নিয়ে নেমে পড়েন উইকেটে। সুরঙ্গা লাকমলের ভয়ঙ্কর বোলিংয়ের সামনে ব্যাট করেছেন এক হাতে। তবে দুঃখের বিষয়, এই চোটটিই হয়তো শেষ করে দিতে পারে তামিমের এশিয়া কাপ মিশন। তবে সেই ব্যাপারে এখনো কিছু জানাননি বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। যথার্থ সঙ্গী পেয়ে মুশফিকও শেষ ১৬ বলে ঝড়ো ইনিংসে তুলেছেন ৩২ রান।

তার আগেই অবশ্য কাজের কাজটা করে ফেলেছিলেন মুশি। বিপর্যয়ের মুখে একপ্রান্ত সামলে রেখেছেন। সঙ্গে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। চতুর্থ উইকেটে তাকে সঙ্গ দিয়ে গেছেন মোহাম্মদ মিথুন। পেয়েছেন প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ১৩২ রানের মাথায় মালিঙ্গার বলে সাজঘরে ফেরার আগে খেলেছেন ৬৮ বলে ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংস। মিথুনের বিদায়ের পর একপ্রান্ত আগলে রেখে মেহেদী হাসান মিরাজ (১৫) ও মাশরাফি বিন মর্তুজার (১১) সঙ্গে ছোট ছোট জুটি করে দলকে টেনে তুলেন খাদ থেকে। তার আগে মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেনও ফিরেছেন ব্যক্তিগত একটি করে রান করে। শেষ পর্যন্ত দলকে ২৬১ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়ে নির্ধারিত ওভারের ৩ বল বাকি থাকতে থিসারা পেরেরার বলে ক্যাচ দিয়ে থামেন মুশি। ১১ চার ও ৬ ছক্কায় ১৫০ বলে করেছেন ১৪৪ রান। মালিঙ্গা একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট।

২৬২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বিপরীত চিত্রটাই ফুটিয়ে লঙ্কানরা। মাশরাফির প্রথম ওভারেই ১৩ রান তুলে ফেলেন ওপেনার উপুল থারাঙ্গা। কিন্তু ব্যাপারটা সহ্য হয়টি টাইগার অধিনায়কের। দলীয় ২৮ রানের মাথায় স্ট্যাম্প উড়িয়ে তাকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন ম্যাশ। তার আগে দলীয় ২২ রানে কুশল মেন্ডিসকে শূন্য উপহার দেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পরপরই তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে লঙ্কানরা। ড্রেসিংরুম থেকে তখন মাঠে নির্বিকার তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিইবা করার ছিল হাথুরুসিংহের? মাঝখানে সামান্য একটু দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তাকেও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে দেননি রুবেল হোসেন। থারাঙ্গা এবং লাকমল ছাড়া আর কেউ দুই দশকের ঘর পার হতে পারেননি। ৩৫.২ বল বাকি থাকতেই মাত্র ১২৪ রানে গুটিয়ে যায় এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সফল দেশটি। মাশরাফি, মুস্তাফিজুর ও মেহেদী হাসান নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। বাকি ৩টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব, রুবেল ও মোসাদ্দেক। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

"