সর্বদলীয় ঐক্যে জামায়াত নয় ড. কামাল

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় ঐক্যে জামায়াতে ইসলামী থাকছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের করণীয় বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভা হয়। সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, না। তাদের (জামায়াত) নেয়া হবে না। এক কথায় উত্তর ‘না’। সাংবাদিকদের প্রশ্নটি ছিল, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যে সর্বদলীয় ঐক্যের ডাক দেয়া হয়েছে সেখানে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী থাকছে কিনা স্পষ্ট করুন।’

জামায়াত নিয়ে ড. কামাল আরো বলেন, জামায়াত দল হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী কাজ করেছে। দল হিসেবে করেছে, এটাতো বলা যায় না যে ব্যক্তি হিসেবে করেছে। জামায়াত নিয়ে আমি যতদূর জানি, ওই দল থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কেউ ছিলেন কিনা। সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে বলেছেন, ‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে আপনাকে পাওয়া যায় না আপনি বিমানের টিকিট কেটে রাখেন, ক্রান্তিলগ্নে আপনি তখন দেশের বাইরে চলে যান।’ প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের জবাবে ড. কামাল বলেন, ২০০৭-০৮ এ আমরা যে মামলা করেছিলাম তাতে ১ কোটি ৪০ লাখ ভুয়া ভোটার বাতিল করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছিল। সর্বোপরি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে যখন আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান থেকে সরালাম তখন আমাদের চারজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহির মামলা হলো। এরপর ২০১০ সালে সে মামলা থেকে আমরা মুক্ত হলাম। তখন তো আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাইনি। ২০০৮ এর নির্বাচন হতো না। আর হলেও এই ফলও হতো না, যদি না ১ কোটি ৪০ লাখ ভুয়া ভোটা বাতিল করা না হতো।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ২০০৭ সালে ২৩টি শর্ত দিয়েছিলেন। ওই শর্তগুলো এখনো প্রযোজ্য হতো, যদি তিনি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকতেন। বিরোধী দলে থেকে যখন শর্তগুলো সমর্থন করেছিলেন, আশা করি, সরকারে থেকেও তিনি সমর্থন করবেন।

‘সংবিধান প্রণয়নের ৪৬ বছর পরে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সংবিধানের আরো কিছু সংশোধনী করা দরকার। এর মধ্যে কিছু ঘাটতি আছে, সেগুলো কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়, সেগুলো লিখিত আকারে আপনারা দিন। তা একত্রিত করে, একটি কমিটি করে যেগুলো বিবেচনাযোগ্য, সেগুলো তুলে ধরা হোক। এই সংশোধনের লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠন করাও যেতে পারে। সরকারই এই কমিটি গঠন করতে পারে। আর সরকার না পারলে আমরা কমিশন গঠন করতে পারি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফরিক প্রমুখ।

"