সংসদে অর্থমন্ত্রী

গত বছর বিদেশি সাহায্য এসেছে ১৪ হাজার ৬১২ মিলিয়ন ডলার

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে বলেছেন, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে বৈদেশিক সাহায্য এসেছে ১৪ হাজার ৬১২ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব অর্থের মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ২৩১ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অনুদান ৩৮০ দশমিক ৭৩ মিলিয়র মার্কিন ডলার এবং বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ৬,২৯০.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তন্মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৫৯১০.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ৩৮০.৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এ কে এম রহমতুল্লাহর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুলতুবি অধিবেশন শুরু হয়।

প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, প্রাপ্ত ঋণ ও অনুদানসমূহ বৈদেশিক সাহায্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান, পানিসম্পদ, শিল্প, বিদ্যুৎ, তেল-গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবহন, যোগাযোগ, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ, শিক্ষা ও ধর্ম, স্বাস্থ্য-পুষ্টি জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ, সমাজ কল্যাণ-যুব উন্নয়ন ও মহিলা-বিষয়ক, জনপ্রশাসন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, গণযোগাযোগ, বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টর ও সাব-সেক্টরে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে। এ প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য ইআরডির মনিটরিং ব্যবস্থা চালু আছে। ঋণ ও অনুদান দেওয়া দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমাণ ৭৮০.৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে পাওয়া গেছে ৮৯৬.৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আইডিএ (বিশ্বব্যাংক) প্রতিশ্রুতি ২৯৩০.৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৪২২.৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, চীনের প্রতিশ্রুতি ৩৬০৭.৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৯৭৮.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ইউএন সংস্থার প্রতিশ্রুতি ১৮৩.০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৬৯.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আইডিবির প্রতিশ্রুতি ১১৩.০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৩২.৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের প্রতিশ্রুতি ১৮২৮.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ১৫৪৪.১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের প্রতিশ্রুতি ৪৫০৭.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৪৯.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রাশিয়ার প্রতিশ্রুতি সব অর্থ পাওয়া গেছে, দেশটির প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৮৩২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩০৬টি। এসব কোম্পানির মধ্যে জেডভুক্ত কোম্পানির ৪৪টির মধ্যে ৩৭টি আংশিক বা পুরোপুরি উৎপাদনে রয়েছে। তবে, এ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির মধ্যে যারা উৎপাদন কার্যক্রমে নেই সে সকল কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অব্যাহত আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিধিমতে তালিকাচ্যুতিকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাইয়ে রহিমা ফুড লিমিটেড এবং মডার্ন ডাইং এন্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং লিমিটেডকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলো বার্ষিক মুনাফা থেকে লভ্যাংশ বিতরণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের শ্রেণি পরিবর্তন হয়।

মো. সোহরাব উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়লে দারিদ্র্য হ্রাস পায়। তবে, অর্থনীতির কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সমানভাবে সকলের কাছে পৌঁছায় না। দারিদ্র্য ও অসমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে আমরা করকাঠামো সংস্কার, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্রঋণ ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে আয় হস্তান্তর ইত্যাদি কৌশল প্রয়োগ করে আসছি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ৬৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা জিডিপির ২.৫৩ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ১৩.৮১ শতাংশ। ২০০৫ সালে ১৩.০ শতাংশ পরিবার সুবিধা ভোগ করে এবং পরবর্তী বছরে ২০০৬ সালে তা উন্নীত করা হয়, যার হার ২৮.৭ শতাংশ। এই উদ্যোগের ফলে দারিদ্র্যের হার ২০১০ সালের ৩১.৫ শতাংশ থেকে কমে ২০১৬ সালে কমে এসে দাঁড়ায় ২৪.৩ শতাংশ এবং অতি-দরিদ্রের হার ১৭.৬ শতাংশ থেকে ১২.৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

"