বিএনপির ১৫ দফার খসড়া চূড়ান্ত

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশকে তাদের ভাষায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে বিএনপি ১৫ দফা দাবির একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে। দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারা দেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। আর এ কারণে অবাধ, সুষ্ঠু ও বাধাহীন নির্বাচনের পরিবেশ প্রয়োজন রয়েছে। যাতে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে। তারা বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায়। এই উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে এমন দলগুলো কী চায়, তা স্পষ্ট করা। রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য ও প্রতিহিংসা বন্ধে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাতেও তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

নীতিনির্ধারকরা জানান, ১৫ দাবি তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আলাপ আলোচনা করে ওই খসড়া তৈরি করেছেন। ভোটে যেতে বিএনপি যে ছয় দফা দাবি দিয়েছে তাও ওই ১৫ দফায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এবং ক্ষমতায় গেলে যেসব বিষয় অগ্রাধিকার পাবে তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে বিরোধীদের ওপর হামলা, মামলা বন্ধ ও বন্দিদের মুক্তির দাবি। নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা সব দলই কিছু না কিছু ছাড় দিয়ে এক হবে।

বিএনপির খসড়া ১৫ দফা

১. বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা আদায়, পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করা, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের ন্যায্য আন্দোলন এবং সামাজিক ও গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে গ্রেফতার ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির নিশ্চয়তা আদায়।

২. ভোটের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া।

৩. আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা।

৪. আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।

৫. নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা।

৬. ভোট কেন্দ্রে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ করা।

৭. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।

৮. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসানে ঐকমত্য গঠন করা।

৯. রাষ্ট্রকে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।

১০. রাষ্ট্রক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

১১. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা।

১২. দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার ও কার্যকর।

১৩. নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা।

১৪. সর্বনিম্ন আয়ের মানুষের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে আয়ের বৈষম্যের অবসান করতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ধারণ করা।

১৫. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য বিএনপির জাতীয় ঐক্য গঠনে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের আলোচনা চলছে।

"