রোহিঙ্গাদের ফেরানোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে শূন্যরেখায় রেডক্রস

ক্যাম্প পরিদর্শন ওআইসির প্রতিনিধি দলের

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

তুমব্রু সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাখাইন রাজ্যের ঢেকুবনিয়া সীমান্তে রেডক্রসের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তুমব্রু সীমান্তের জিরো লাইনের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলটি শিবিরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও তাদেরপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ওআইসির প্রতিনিধি দল।

জিরো লাইনের রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার তংপ্লাইও এলাকার আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় প্রতিনিধি দলটি। এ সময় সেখানে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা দেওয়ার কথাও জানায় প্রতিনিধি দলটি। জিরো লাইনের রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অংশে অবস্থান করায় এখন থেকে মিয়ানমারের রেডক্রসের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয় রোহিঙ্গাদের। জিরো লাইনের রোহিঙ্গা আবদুল আলিম ও মাঝি দিল মুহাম্মদ জানান, প্রতিনিধি দলটিকে তারা জানিয়েছেন যে, তারা সহায়তা চান না। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চান।

দ্রুত রাখাইনে তাদের নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নিতে রেডক্রসের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন জিরো লাইনের রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পর রেডক্রসের প্রতিনিধি দলটি মিয়ানমারে ফিরে যায়।

এদিকে, রেডক্রসের প্রতিনিধি দলটির জিরো লাইন এলাকা পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উভয় সীমান্তের বিজিবি ও বিজিপির সদস্যরা টহল জোরদার করে।

প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান রয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। ওই শিবিরে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে ওআইসির প্রতিনিধি দল

এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অন্তর্ভুক্ত পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দর হয়ে সরাসরি ঘুমধুম ট্রানজিট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান তারা। এ সময় নতুন করে আসা ৫০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে এই রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের কাহিনি শোনেন তারা।

ঘুমধুম থেকে পরে উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউএনএইচসিআর এর ট্রানজিট সেন্টারে যান এবং সেখানেও নির্যাতিত কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-ব্লকে অবস্থিত ইউএনএফপিএ এর নারী বান্ধব কেন্দ্রে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। একইসঙ্গে এই ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে ইউনিসেফের শিশুবান্ধব কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করবেন তারা। বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজারে অবস্থিত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কুরাইশি নিয়াশ, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আলী আজগর মোহাম্মদী সিজানি, ডাইরেক্টর অব কনফারেন্স জাহিদ হাসান কুরশি, ইরানের সংসদ সদস্য সৈয়দ হিমায়েত মিরজাদি, মোহাম্মদ হোসাইন কুর্ডলু, তুরস্কের হেড অব ডেলিগেশন ওরহান এ্যাটালাই, মমতাজ জারনি, মালেশিয়ার ডেপুটি স্পিকার রশিদ বিন হাসনুন, মহসীন বিন আবদুল মালেক, আলজেরিয়ার সংসদ সদস্য ইউসেফ এডজিসা, সুদানের ওমর ইবনে দুউদ, মাহামুদু ডিজুগা ডিজুদ্দি, ইসাখা ইসা ইউছুপ, আল হাসান মোহাম্মদ, অসীম উমর আহমেদ আদনান, মোক্তার আহমদ, মাহজুমা হাসান মুসা, আবদেল রহমান হোসাইন, মরক্কোর মোহাম্মদ ওজ্জিন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব স্বর্ণালী ছন্দাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা

"