জিপিওর পার্সেল শাখা থেকে ১৫৮৬ কেজি ‘এনপিএস’ জব্দ!

নতুন এই মাদকের সবচেয়ে বড় চালান

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর এবার জিপিওর বৈদেশিক পার্সেল শাখা থেকে গ্রিন টি-এর আড়ালে পাচারের জন্য রাখা ৯৬ কার্টনে মোড়ানো ১ হাজার ৫৮৬ কেজি ৩৬ গ্রাম ওজনের নতুন মাদক ‘এনপিএস’ বা ‘খাট’ জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জব্দ হওয়া এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহ আলম। তিনি জানান, গত রোববার ‘এনপিএস’ বা ‘খাট’ নামে পরিচিত নতুন এই মাদকের সবচেয়ে বড় চালানটি জব্দ করে সিআইডির একটি দল।

শাহ আলম বলেন, ডাক বিভাগকে ব্যবহার করে চালানটি আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এটিও জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের ২০ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ঠিকানায় এ মাদক আমদানি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের শনাক্তসহ আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ডাক বিভাগের কেউ জড়িত কি না? সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের পর বলা যাবে। মাদক জব্দের ঘটনায় সোমবার পল্টন থানায় মামলা হয়েছে।

এদিকে, সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০টি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির মধ্যে তুরাগের বাদলদীর এশা এন্টারপ্রাইজের নামে ৪১টি। এ ছাড়া রাজধানীর বাসিন্দা আলমগীরের নামে ৮টি, একরামুলের নামে ৫টি, সাইফুলের নামে ৪টি, উজ্জ্বল ও ওবায়েদের নামে ৩টি করে, মুন্না, বাদল এবং আরিফ ও মুশফিকের নামে ২টি করে ও আমিন, আতিকুল্লাহ, শাহআলম, জয়, রাশেদ, মিজান ও রুহুল আমিন মোল্লার নামে একটি করে চালান এসেছে। অপরদিকে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের নামে একটি চালান এসেছে। ইতোমধ্যে সিআইডি তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত সোমবার সকালে বিমানবন্দরের কার্গো ইউনিটের ফরেন পোস্ট অফিস থেকে ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের ১৪০ কেজি ওজনের এনপিএসের চালান জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।

আর গত ৩১ আগস্ট দেশে এই মাদকের প্রথম অস্তিত্ব মেলে। ওইদিন শাহজালাল বিমানবন্দর ও শান্তিনগর থেকে ৮৬১ কেজি ওজনের মাদকের একটি চালান জব্দ করে ডিএনসি। এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর একই মাদকের ১৬০ কেজি ওজনের আরেকটি চালান জব্দ করে কাস্টমস হাউস ও ডিএনসি। এখন পর্যন্ত জব্দ করা সবকয়টি চালান ইথিওপিয়া থেকে জিয়াদ মোহাম্মাদ ইউসুফ নামের একজন ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, এ মাদকটি পানির সঙ্গে মিশিয়ে তরল করে সেবন করা হয়। সেবনের পর মানবদেহে এক ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করে। যাতে অনেকটা ইয়াবার মতো প্রতিক্রিয়া হয়। এটি বাংলাদেশে আনা নতুন এক ধরনের মাদক। ‘গ্রিন টি’ এর মতো দেখতে এটি মূলত ইথোপিয়ান ‘গাঁজা’ বা ‘খাট’ বা নিউ সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস (এনপিএস)।

"