১০০ ছাড়ার প্রস্তুতি বিএনপির, শরিকদের দাবি আরো বেশি

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বদরুল আলম মজুমদার

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলে বিএনপির কাছে ১৫০টি আসন দাবি করেছে। আবার ভিন্ন দল থেকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দাবিও আসছে আকারে ইঙ্গিতে। এমন অবস্থায় বিএনপির হাইকমান্ড চুপ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এ আবদার নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অন্যদিকে গত একদশক থেকে বিএনপির সঙ্গে থাকা ২০ দলীয় জোটের নেতারা দাবি করছেন প্রায় ১৬৫ আসন। এসব দাবি মানলে সবমিলে ৩০০ আসন ছেড়ে দিলেও হয় না। এ নিয়ে বিএনপির নেতারা সরাসরি কিছু না বললেও, ঘরোয়া আলোচনায় এ নিয়ে কথা হয়েছে। তবে দলীয় সূত্র জানায়, যেকোনো বিবেচনায় জোটের শরিক ও জাতীয় ঐক্যে প্রক্রিয়ার নেতাদের কম-বেশি শতাধিক আসনে ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে দলটি। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বিএনপি সরকার বিরোধী একটি বৃহত প্লাটফর্ম গঠনে কাজ করছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকে অনেক ধরনের দাবি পেশ করবেÑ এটাই স্বাভাবিক। তবে এসব দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আমরা এখনই কোনো কথা বলতে চাই না। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি আদায়ের পর সবার চাওয়া-পাওয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলার নাই আপাতত।

তবে, বিএনপির সূত্রগুলো বলছে যেকোনো বিবেচনায় শতখানেকের কিছু বেশি আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি। এ বিষয়ে এখনই কর্ণপাত করছে না দলটির নেতারা। তবে সব দলের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে বিএনপি। তাদের মতে, যেখানে যে প্রার্থীর জিতে আসার সম্ভবনা বেশি থাকবে দল থেকে তাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সে প্রার্থী কোন দল বা জোটেরÑ সেটা বড় করে দেখা হবে না। এদিকে যুক্তফ্রন্টের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিএনপি এখনই কোনো কথা বলবে না।

এ বিষয়ে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, ক্ষমতাসীনদের বহুমুখী চক্রান্তকে মোকাবিলা করে যার তার পক্ষে নির্বাচনে জিতে আসা সম্ভব নয়। তাছাড়া রয়েছে প্রার্থীর আর্থিক সঙ্গতির প্রশ্নটিও। সরকারের কাড়ি কাড়ি টাকার বিপরিতে শুধু নীতি কথা দিয়ে নির্বাচনে জিতে আসার দৃষ্টান্ত অতীতেও ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হয় না। তবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চাইলে সেটা ভিন্ন কথা। এ নিয়ে বিএনপিকে কিছু বলতে হবে না, রাজনীতি সচেতন জনগণই কথা বলবেন।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে না থাকলেও আসন বণ্টনে বিএনপির কাছে চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই ২০ দলীয় জোটের শরিকদের। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত তারা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। ২০ দলীয় জোট সূত্র জানায়, বিএনপির কাছে ২০০ আসন চেয়েও খুশি নন জোটের শরিক দলগুলো। তাদের দাবি, আসন নিয়ে বিএনপির কাছ থেকে কোনো আশ্বাসই মিলছে না। গত রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে জোটের বৈঠকে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো কথাই বলেনি বিএনপি। এ নিয়ে হতাশ জোটের শরিকরা। তবে বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের এক নেতার ১৫০ আসন চাওয়া নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

জোটের শরিক দলের একাধিক নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, গত একদশক থেকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আঁকড়ে ধরে রয়েছেন। কিন্তু আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথাই বলছে না বিএনপি। এটা তাদের এখনই স্পষ্ট করা উচিত।

সূত্রে জানা যায়, জোটের অন্যতম প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী চায় অন্তত ৫৫টি আসন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও খেলাফত মজলিস চায় অন্তত ২৫টি করে আসন, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ১৫টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১০টি, বিজেপি দুটি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম এবং লেবার পার্টি চায় ছয়টি করে আসন, বাংলাদেশ ন্যাপ পাঁচটি, এনডিপি দুটি, জাগপা ও এনপিপি চায় চাটি করে আসন, ডেমোক্রেটিক লীগ ও ন্যাপ চায় (ভাসানী) দুটি করে আসন এবং সাম্যবাদী দল চায় একটি আসন। এ ছাড়া যুক্তফ্রন্ট বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনে গেলে অন্তত ৫০টি আসন চাইতে পারে বলে জানা গেছে। জোটের শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ‘বিএনপির কাছে শরিক দল হিসেবে কল্যাণ পার্টি ১০টি আসন চায়। জোটের অন্যতম শরিক দল এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘তার দলে বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-এমপি রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে এলডিপির ৩০টি আসন চাওয়া অযৌক্তিক কিছু নয়।

"