গাজীপুরে মিলন হত্যায় ৭ জনের ফাঁসি

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে মিলন ভূঁইয়া নামের এক ব্যবসায়ীকে হত্যা মামলায় সাতজনকে ?মৃত্যুদ- এবং একজনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া এক আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম করাদ- এবং মামলা থেকে অন্য দুইজনকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক ওই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় সাতজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মৃৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন- কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও এলাকার (নানা বাড়ি) জলিল মেম্বরের ছেলে রাজীব হোসেন ওরফে রাজু (২৮), গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গজারিয়াপাড়া এলাকার জাব্বারের ছেলে মোহাম্মদ কাইয়ুম (৩০), কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার গুরুদিয়া এমদাদুল হকের ছেলে মোহাম্মদ রাজীব হোসেন (২৮), কাপাসিয়ার আফসার উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৩২), কাপাসিয়ার নলগাঁও এলাকার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওরফে পারভেজ (৩৩), জামালপুরের ইসলামপুর থানার পূর্ববলিয়াদহ গ্রামের শহিদুজ্জামানের ছেলে মোহাম্মদ আলী হোসেন ওরফে হোসেন আলী (৩৪), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার শুকানোদীঘি এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে ছোট আলী (২৭)। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অন্য একটি ধারায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে আরো ১০ বছর করে সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ বছরের কারাদ-প্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার সাহেদল এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে মো. মাসুম ওরফে মামা মাসুম (৩৯)। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জনিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারদ- দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার রমজান আলীর ছেলে মো. এনামুল হক (৩৫) ও কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার আসমিতা গ্রামের আবদুল জব্বরের ছেলে শামসুল হক (৫০)।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান এবং এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লক্ষ্মীপুরা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মিলন ভূঁইয়া সেন্টারিংয়ের মালামাল ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করতেন। গাজীপুর সদরের বাঘেরবাজার এলাকার আমির হোসেন তার কাছে থেকে কিছু মালামাল ভাড়া নেয়। গত ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মিলন ভূঁইয়া তার মামাতো ভাই শাহজাহানকে নিয়ে ভাড়ার টাকা এবং মাল আনতে বাগেরবাজার গেলে সেখানে এ নিয়ে আমির হোসেনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে সন্ধ্যা ৭টায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের গেটের ২০০ গজের উত্তর-পশ্চিমে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় পৌঁছলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে এ ব্যাপারে নিহতের মামা আকতার হোসেন বাদী হয়ে আমির হোসেনসহ দুজনের নামে এবং ৮-১০জনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।

মামলাটি প্রথমে জয়দেবপুর থানা পুলিশ, পরে গাজীপুর ডিবি পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করে। তদন্তকালে আমির হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এটি একটি ডাকাতির ঘটনা এবং দ-প্রাপ্তরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। পরে পুলিশ ওই ১০ জনকে আসামি করে এবং আমির হোসেনসহ কয়েকজনকে অব্যহতি দানের প্রার্থনা করে আদালতে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করেন। শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল সোমবার বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে ওই দ-াদেশ প্রদান করেন। দ-প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রাজীব হোসেন, ফারুক হোসেন ও মো. আলী পলাতক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে পিপি মো. হারিছ উদ্দিন এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট খালিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট খালেদ মাহমুদ রাব্বি, অ্যাডভোকেট মো. হাফিজ উল্লাহ দর্জি, অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান তমিজ মামলাটি পরিচালনা করেন।

 

"