কারা আদালত

খালেদার আইনজীবীরা আইনটা জানেননা : আইনমন্ত্রী

প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চায় বিএনপি

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

কারাগারে আদালত স্থাপন আইনের লঙ্ঘন বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যে দাবি করেছেন সে বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘উনারা যদি এ রকম কথা বলেন, তাহলে আমি বলব, উনারা আইনটা জানেন না।’ গতকাল রোববার দুপুরে প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় ঘণ্টাব্যাপী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে, একইদিন কারাগারে বিচার নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করে তার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তাদের দাবি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ না করেই এ আদালত স্থানান্তর করা হয়েছে। তাই বিষয়টি দেখার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। এছাড়া, কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল আবেদনটি আজ সোমবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসতে পারে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের কারণ জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ঈদের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম। পারিবারিক কারণে এতদিন (ঈদের পর) দেখা করতে পারিনি। আজকে মনে করলাম যে, ঈদের সাক্ষাৎ করা দরকার।’

এর আগে সকালে খালেদা জিয়ার কারা আদালত নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে নালিশ করেন তার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না। আমি যে বিষয়ে জানি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না। এ বিষয়ে অবগত হওয়ার পরে আমি নিশ্চই মন্তব্য করব।’

আইন মন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার জন্য কারা-আদালত স্থাপন আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করছেন তার আইনজীবীরা। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘উনারা যদি এ রকম কথা বলে থাকেন তাহলে আমি বলব, উনারা আইনটা জানেন না।’

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মীর নাসির উদ্দীন এবং ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।

সাক্ষাতের পর জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, দেশের সংবিধানের গার্ডিয়ান হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক প্রধান বিচারপতি। এটা সুপ্রিম কোর্টের পাওয়ার। এটা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে কনসাল্ট না করে এ ধরনের কোনো কোর্ট প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে না। এটা আমরা বলেছি। প্রধান বিচারপতি পৌনে এক ঘণ্টা ধৈর্য সহকারে আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা আশা করি, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তিনি বলেছেন, দেখব। ‘বিচারিক সীমা লঙ্ঘনকারীদের’ বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদনও করেছেন তারা।

"