ইসির মাঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ঝুলে যাওয়ায় হতাশা-অসন্তোষ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালকের এবং ৪৫ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে আপত্তি তুলেছে জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অনুমোদিত এই প্রস্তাব পুনরায় ইসিতে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তে মাঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ঝুলে আছে, এতে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ও অসন্তোষ। পদ দুটিকে যথাক্রমে ২য় ও ৫ম গ্রেডে উন্নীত দেখতে চায় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের উদ্দেশ্য, নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি সঞ্চার এবং মাঠ পর্যায়ে সম-পদগুলোর মধ্যে বৈষম্য নিরসন করা। ইসি সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

জানতে চাইলে এ কমিটির সমন্বয়ক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, জন-প্রশাসন ইসির প্রস্তাবটি আবারও কিছু সংযোজন-বিয়োজন করার জন্য ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল। তবে, কমিশনের কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রণালয়কে বলেছি, এটি অনুমোদন দিয়ে ফেরত পাঠানো জন্য। কারণ এই প্রস্তাবটি ইসির একার অভিপ্রায় নয়, সরকারেরও। আশা করছি, মন্ত্রণালয় কমিশনের অনুমোদিত প্রস্তাব ফেরত পাঠানোর আগে বিবেচনা করবেন, যোগ করেন কমিশনের এই যুগ্ম সচিব।

উল্লেখ্য, ইসির মাঠ পর্যায়ে ৬৪ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯টি জেলার কর্মকর্তাদের পদ পঞ্চম গ্রেডের অর্থাৎ উপসচিব পদমর্যাদার। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ওই জেলাতে পদায়ন পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে, বাকি ৪৫ পদের কর্মকর্তারা ইউএনওসহ সমমর্যাদার। এতে মাঠ প্রশাসেন বড় ধরনের জটিলতা ও বৈষম্য চলে আসছে। এ অসমতা নিরসনে ইসির নীতি-নির্ধারকা একমত হয়ে জন-প্রশাসনে প্রস্তাব পাঠায়। এ নিয়ে এখন চলছে ফাইল চালাচালি।

ইসির কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন, বিভিন্ন সিটি নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তা অর্থাৎ রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয় কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের। শুধু জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)। এ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হন ইসির কর্মকর্তারা।

কিন্তু সংসদের উপনির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হলে প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের অধীনস্থ হন। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তার পদমর্যাদা অধীনস্থদের সমমান অথবা একধাপ কিংবা আরো নিচে থাকায় অনেক সময় তাদের নির্দেশ মানা হয় না। একইভাবে, সমমর্যাদার হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনস্থ অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা বিব্রত হন।

এসব জটিলতা, বৈষম্য, ইসিকে শক্তিশালী করা এবং নিজস্ব কর্মকর্তাদের কাজে গতি ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়Ñ ইসির কর্মকর্তাদের পদবৈষম্য দূর হলে কাজে গতি ফিরবে। কারণ ভোটার তালিকা থেকে নানা ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন বছরজুড়ে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা নির্বাচন অফিসারের পদগুলো সাব-ডিভিশনাল নির্বাচন অফিসার হিসেবে এনাম কমিটি ২য় শ্রেণির পদ হিসেবে অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে এ পদকে উন্নীত করে প্রথম শ্রেণি করা হয়। এ ছাড়া ২০১১ সালে সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধনপূর্বক ৮৩টি জেলা নির্বাচন অফিসার থেকে ১৯টি সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার অর্থাৎ ৫ম গ্রেডের এবং বাকি ৪৫টি জেলা নির্বাচন অফিসার পদকে ৬ষ্ঠ গ্রেডের করা হয়। উল্লেখ্য, ১৯ জেলা নির্বাচন অফিসারের পদ বিলুপ্ত করা হয়।

মাঠ পর্যায়ে এ পদমর্যাদা ও বেতন বৈষম্য নিরসনের কমিশন গত ২৫ জুন তারিখে জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়। আর গত ৩০ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে সভা হয়। এ সভাতে তারা আপত্তি জানায়। তবে কমিশনের পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব গ্রহণে মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি উত্থাপন করেন। এতেও মন্ত্রণালয় সন্তুষ্ট হতে পারেনি বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের বরাদ্দ লাগবে না। বরং নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। উদ্যমী হবেন মাঠ প্রশাসনের এসব কর্মকর্তারা। নির্বাচনের পরিচালনার কাজ পরিচালিত হবে সুচারুভাবে। কিন্তু জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয় এতে আপত্তি তোলায় কমিশনের অনুমোদিত প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অথচ এ প্রস্তাবটি যৌক্তিক বিবেচনায় কমিশন অনুমোদন দেয়। কারণ আইন, প্রবিধানমালা, কোড ইত্যাদি সংশোধনী আনয়নের প্রয়োজন হবে না। শুধু নির্বাচন কমিশন (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০০৮ এর সংশোধনী আনতে হবে।

 

"