বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যজনক বিদায়

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর বীর বেশে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। অভিনন্দিত হয়েছিলেন তপু বর্মণ-মামুনুলরা। কিন্তু কাল পাল্টে গেল দৃশ্যপট। দর্শকদের দুয়োধ্বনি ও বোতলবৃষ্টির মধ্যে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো লাল-সবুজদের। এমন দৃশ্যটা বাংলাদেশের ফুটবলে খুব পরিচিত। এই রোদ তো এই বৃষ্টি। দারুণ জয়ের পর আশা জাগিয়ে আবার ছন্দপতন। অথচ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কালকের ম্যাচটা ড্র হলে চলত কোচ জেমি ডের শিষ্যদের। তেমন একটা চাপও ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ ‘আনপ্রেডিক্টেবল।’ নিজেদের পা’কেও তারা বিশ্বাস করে না। শেষ পর্যন্ত তারই প্রমাণ পেল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের হাজার হাজার উৎসুক দর্শক। কিন্তু তাদের হতাশ করে দিতে বাংলাদেশের লাগল মাত্র ৯০ মিনিট। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে এখন তাই দর্শক হয়েই অতিথি দলের খেলা দেখতে হবে বাঙালিদের।

কাল সময়ের চাকা ঘুরার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশের স্বপ্ন। অবশেষে সেটিই সত্যি হয়েছে। ৩৩ মিনিটে গোলরক্ষকের ভুলে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। এরপর ম্যাচে সমতা আনতে কয়েকবার প্রতিপক্ষের শিবিরে হানা দিয়েছিল কোচ ডে’র দল। কিন্তু একজন ফিনিশারের অভাব কালকেও ভুগিয়েছে স্বাগতিকদের। চাপ নিয়েও উজ্জীবিত নেপাল উল্টো ৯০ মিনিটে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় বাংলাদেশের জালে। তাতেই সাফের এক যুগের হতাশাটা আরেকবার মাথায় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও পাকিস্তান থেকে আদায় করে নিয়েছিল ৩ পয়েন্ট। বিকেলের ম্যাচে পাকিস্তান ৩-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে চোখ রাঙাচ্ছিল। সেই সঙ্গে শেষ চারে যেতে হলে নেপালেরও দরকার ছিল বাকি ৩ পয়েন্ট। নেপাল আদায় করতে পেরেছে। সঙ্গে হতাশার রাত উপহার দিয়ে গেছে কোটি ফুটবল প্রেমীদের। ৬ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় সেমিতে যাওয়া হলো না কোচ ডে’র শিষ্যদের।

 

"