উত্তরবঙ্গে ট্রেনযাত্রায় কাদের

বিশৃঙ্খলা হলেই ব্যবস্থা যাচাই করে মনোনয়ন

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের উন্নয়ন কাজ তৃণমূলে পৌঁছে দিতে নির্বাচনী ট্রেনযাত্রায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই গুরুত্বপূর্র্ণ সময়ে কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই শোকজ যাবে। দিনাজপুর যাবে, রাজশাহী যাবে, বরগুনা যাবে, সিলেট যাবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনপ্রিয়তা যাচাই করে মনোনয়ন দেওয়া হবে। শুধু সেøাগান দিয়ে কারো জনপ্রিয়তা যাচাই করা যাবে না। প্রত্যেকের জনপ্রিয়তার আমলনামা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আছে। সেই আমলনামা দেখেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। গতকাল শনিবার দিনভর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পথসভায় এসব কথা বলেন কাদের। এর আগে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে এই যাত্রা শুরু হয়। এ সময় কাদের বলেন, এই যাত্রা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত থাকবে। দেশব্যাপী দলকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে নৌ ও সড়কপথেও সফর করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি ও জামায়াতের গুজবের রাজনীতির বিষয়ে সচেতন হয় সেজন্য দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যাত্রাপথে তিনি টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারীর পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সফরের খবর পাঠিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিরাÑ

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলস্টেশনে পথসভায় কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দিতেই আমাদের এই নির্বাচনী সফর। এই সফরের মাধ্যমে আমরা তৃণমূলের কিছু বার্তা দিতে চাই। সামনে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।

পথসভায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।

পাবনা : পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলস্টেশনে পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০১৪ সালের মতো আবারও জ্বালাও-পোড়াও-বোমাবাজির ষড়যন্ত্র করছে। জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি বিগত ১০ বছরে ১০ মিনিট রাজপথে আন্দোলন সংঘঠিত করতে পারেনি। বিএনপি বলেছিল রোজার ঈদের পর আন্দোলন। রোজার ঈদের পর আবার কোরবানির ঈদের পর রাজপথে আন্দোলন। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের জোয়ারে বিএনপির আকাশে এখন মেঘের ঘনঘটা, তাদের সামনে আর কোনো দিনই ঈদ আসবে না।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সভাপতিত্বে পথসভায় সদরের এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লালসহ বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

নাটোর : নাটোর রেলস্টেশনে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনপ্রিয়তা যাচাই করে মনোনয়ন দেওয়া হবে। শুধু স্লোগান দিয়ে কারো জনপ্রিয়তা যাচাই করা যাবে না। প্রত্যেকের জনপ্রিয়তার আমলনামা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আছে। সেই আমলনামা দেখেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সরকারের জনপ্রিয়তা নেই বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, এই নাটোরে আজকে দেখেন কী অবস্থা, আসছি পথসভা করতে হয়ে গেছে জনসভা।

তিনি আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, বিএনপির সন্ত্রাস, আগুন, পেট্রলবোমা, মানুষ পোড়ানো ছাড়া এমন কি কাজ রয়েছে যে জনগণ তাদের ভোট দেবে? জনগণকে তিনি নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাক ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

জয়পুরহাট : জয়পুরহাট রেলস্টেশন চত্বরে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মাস্তানি ও জনগণের ক্ষতি করে কেউ মনোনয়ন পাবে না। আপনাদের আমলনামা শেখ হাসিনার কাছে আছে। যারা এলাকায় জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে তাদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

পথসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল আলম দুদু এমপির সভাপতিত্ব করেন।

এর আগে গতকাল সকাল ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনযাত্রার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে আওয়ামী লীগ।

এই সফরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের এই সফর উপলক্ষে ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি রিজার্ভ করা হয়েছে। সফরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশনে ১১টিরও বেশি পথসভা হয়েছে। সফর শেষ হয় নীলফামারী গিয়ে।

ট্রেনযাত্রায় কাদেরের সফরসঙ্গী রয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

 

"