ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি চাল আত্মসাৎ

* সই জাল করে চাল বিক্রি * মন্দির এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামে ভুয়া প্রকল্প

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. শাকিল আহমেদ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়াজ মাহফিল ও সনাতন ধর্মের নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান এবং এতিম শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া জেনারেল রিলিফ (জিআর) প্রকল্পের চাল আত্মসাৎ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলের নেতাকর্মী এবং তাদের সহযোগীরা মন্দির, মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে ভুয়া প্রকল্প জমা দিয়ে বেশির ভাগ চালই ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিআরের চাল বাইরে বিক্রির সুযোগ নেই। হয়তো চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে।

সরকারি বরাদ্দের চাল আত্মসাতের ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ঢোলরহাট এলাকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর, রুহিয়া পশ্চিম, ঢোলরহাট, রাজাগাঁও ইউনিয়নের ৫২টি প্রকল্প যাচাই করে এই দুর্নীতির সত্যতা মিলেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাকসুদা আক্তার। তিনি জানান, জিআরের চাল বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। এমনটি হয়ে থাকলে, তা অনিয়ম হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানায়, জিআর প্রকল্পের মাধ্যমে গত ১২, ২১ ও ২৬ জুন জেলার মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, মন্দিরে নামযজ্ঞ ও মাদ্রাসা এতিমখানায় খাবারের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২১৭ টন খাদ্য শস্য (চাল) বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে এসব চাল ছাড় করা হয়। সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহবুদ্দিন আহমদ বলেন, বরাদ্দের সবটুকু চালই গত ৩০ জুনের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উত্তোলন করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, নেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠ সদর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মো. শামসুজ্জামান ওরফে দুলাল সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে ইউএনও কার্যালয়ে খাদ্যশস্য সহায়তা পেতে আবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। ব্যবসায়ীরা ওই চাহিদাপত্র খাদ্যগুদামে জমা দিয়ে তা খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব কাজে ইউএনও ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সহায়তা করেছেন।

প্রকল্পের তালিকায় দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলরহাট ইউনিয়নের ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১৯টি প্রকল্প দেখানো হয়েছে ওয়াজ মাহফিল বা ইসলামী জলসা। নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান আটটি, মসজিদে উন্নয়ন চারটি ও বিদ্যালয়, মন্দির ও ঈদগাহ ময়দানের নামে একটি করে প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৪ মেট্রিক টন চাল।

ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সরকারপাড়া জামে মসজিদের জন্য এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প সভাপতি হলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী মো. সামসুল আলম। তাকে আরেকটি প্রকল্প সভাপতি দেখিয়ে একই মসজিদ মাঠে ইসলামী জলসার নামে আরেক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ নেওয়া হয়। কিন্তু ওই মসজিদে গিয়ে জানা গেছে, নিজে প্রকল্প সভাপতি হলেও হাজী সামসুল জামায়াতের সদর উপজেলার সাবেক আমীর মো. শামসুজ্জামান ওরফে দুলাল তাকে মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু ইসলামী জলসার প্রকল্পের সভাপতি হলেও তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। এ বিষয়ে তিনি জানান, ইসলামী জলসার প্রকল্পে তার যে সই দেওয়া আছে, তা জাল। তিনি শুধু একটি প্রকল্পের সভাপতি হিসাবে কাগজপত্রে সই করেছেন। তাছাড়া মসজিদের আয়োজনে কোনো ইসলামী জলসাই করা হয়নি। বিষয়টি শামসুজ্জামানের চাচাতো ভাই আনছারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

তালিকায় মাধবপুর ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় ইসলামী জলসার জন্য এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ওই গ্রামের বাসিন্দা ও শামসুজ্জামানের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, সারা বছর না চললেও রমজান মাসে মাধবপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদে মাদ্রাসা চলে। আর ইসলামী জলসা সম্পর্কে তিনি বলেন, একবার জলসা আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে তা হয়নি।

মাধবপুর গ্রামের একই চত্বরের ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়, মাহালিয়াহাট শ্রীশ্রী কালী মন্দিরে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠান, মাহালিয়াহাট জামে মসজিদ মাঠে ইসলামী জলসার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জব্বার বলেন, আমি প্রকল্প সভাপতি এটা সত্যি। তবে বরাদ্দের চাল আমি তুলতে যাইনি। বরাদ্দ নেওয়ার সব প্রক্রিয়া দুলালই (শামসুজ্জামান) করেছে। আমি শুধু সই করেছি। গত কয়েকদিন আগে তিনি আমার হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দেন। আর এ মাঠেতো কোনো ইসলামী জলসা হয়নি। জলসার নামে কে চাল তুলেছে।

পাটিয়াডাঙ্গী এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও হাফেজিয়া মাদরাসার ওয়াজ মাহফিল ও আসাননগর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ছাত্রদের খাওয়ার জন্য এক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির সভাপতি হলেন ইউসুফ আলী ও দুলাল হোসেন। আর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম সরকার ওই দুটি প্রতিষ্ঠানেরই পরিচালনা কমিটির সভাপতি। বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠান দুটি চাল পাননি। তবে মোশারুল ইসলাম সরকারের দাবি, ইউসুফ ও দুলাল নামের ওই দুই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না।

রুহিয়া ক্যাথেলিক মিশন শিশু সদনের নামে দুই মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কিছুই জানে না। মিশন শিশু সদনের সম্পাদক পিয়ুস দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকল্প সভাপতি হিসাবে রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গ্যাবরিয়াল দাসের নাম থাকলেও তিনি জানান, তার সই জাল করে বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে।

আখানগর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পুলেন্দ্র রায় জানান, দুর্গা মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের প্রথা নেই। তবু বিভিন্ন দুর্গা মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে আসা ভক্তদের জন্য খাবারের বিপরীতে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহারি তালতলী দুর্গা মন্দির, ঢোলরহাট ইউনিয়নের মাধবপুর জোতপাড়া দুর্গা মন্দির, গোল্লাল বাবু দুর্গা মন্দির, মাহালিয়াহাট শ্রীশ্রী কালী মন্দির, বড়বাড়ি ধর্মপুর দুর্গা মন্দিরসহ আরো কয়েকটি মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের নামে এক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব স্থানে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।

এ ছাড়াও ঢোলরহাট ইউনিয়নের মাধবপুর জগন্নাথ মন্দির, রুহিয়া ইউনিয়নের সেনিহারি তালতলি হরিমন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও কমিটির লোকজন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

বাড়ির কাজের লোকও প্রকল্প সভাপতি: মাহালিয়াহাট শ্রীশ্রী কালী মন্দিরে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া প্রকল্পের সভাপতি শ্রী সাগর রায় নামে এক যুবক। মন্দিরের সভাপতি রাজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, সাগর ওরফে কুড়ানু মন্দিরের কেউ না। আমাদের মন্দিরের নামে যে চাল তুলেছে, সে দুলালের বাড়িতে কাজ করে। সাগরকে দিয়ে মন্দিরের বরাদ্দের চাল দুলাল তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

একই ইউনিয়নের ঝলঝলিপুকুর জামে মসজিদ, হঠাৎপাড়া জামে মসজিদ, মাধবপুর পশরতেলী জামে মসজিদ, পশরতেলী ঈদগাহ মাঠ, মাহালিয়াহাট জামে মসজিদ, উত্তর বোয়ালিয়া (রাস্তার পশ্চিম) জামে মসজিদ, সন্ন্যাসীপাড়া জামে মসজিদ, হারাগাছপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, কলাবাগান জামে মসজিদ ও রুহিয়া ইউনিয়নের মন্ডলাদাম সরকার পাড়া জামে মসজিদে ওয়াজ মাহফিলের নামে বরাদ্দ দেওয়া চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।

উত্তর বোয়ালিয়া (রাস্তার পশ্চিম) জামে মসজিদের সভাপতি হাসান মিয়া বলেন, শোনা যায় এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের খাতিরের পাশাপাশি ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প তৈরি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেন দুলাল। পরে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। শুধু এ বরাদ্দে নয়, চেয়ারম্যান ও দুলাল দুজনে মিলে ইউনিয়নের সব বরাদ্দে ভাগ বসিয়েছে। তাই আত্মসাতের খবর ফাঁস হওয়ায় তারা দুজনই এখন সামান্য কিছু টাকা দিয়ে মসজিদ-মন্দির কমিটির লোকজনকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।

একই প্রতিষ্ঠানকে একাধিক বার দেখিয়ে চাল আত্মসাৎ : ঢোলরহাট ইউনিয়নে রুহিয়া সড়কের পাশে ঢোলরহাট হাইস্কুল জামে মসজিদ ও ঢোলরহাট জামে মসজিদে ওয়াজ মাহফিলের জন্য বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে দুই মেট্রিক টন চাল। কিন্তু ওয়াজ মাহফিল দেখানো হলেও মসজিদ দুটি একই। হোসেন আলী নামের এক এলাকাবাসী বলেন, ঢোলরহাট এলাকায় ঢোলরহাট জামে মসজিদ নামে কোনো মসজিদই নেই।

আখানগর ইউনিয়নের ঝাড়গাঁও গ্রামের ঝাড়গাঁও রাহমানিয়া মাদরাসা, ঝাড়গাঁও রাহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা এতিমখানা বরাদ্দ পেয়েছে দুই মেট্রিক টন চাল। মাদ্রাসার সভাপতি মো. এরশাদুল হক জানান, ঝাড়গাঁও রাহমানিয়া নামের ঝাড়গাঁও গ্রামে একটিই মাদ্রাসা রয়েছে। বরাদ্দের চাল আত্মসাতের জন্য একই মাদ্রাসাকে দুটি নামে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই মাদ্রাসায় জলসার নামেও এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পুরাতন ঠাকুরগাঁও ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং পুরাতন ঠাকুরগাঁও ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা একই প্রতিষ্ঠান হলেও পৃথক প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি পরিচয়ে মাহাবুব আলম নামের একব্যক্তি ওই চাল উত্তোলন করেন।

অস্তিত্বহীন ক্লাবের নামেও জলসা : ঢোলরহাট ইউনিয়নে মাধবপুর উন্নয়ন যুব সংঘ নামের মাহালিয়াহাট এলাকায় কোনো ক্লাবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবু ক্লাবটির মাঠে ইসলামী জলসা আয়োজনের নামে একটন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। বরাদ্দ উত্তোলন করেছেন আইনুল হক নামে এক ব্যক্তি।

প্রকল্প সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের কথা : ওয়াজ মহফিলের জন্য এক মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পায় ঢোলরহাট হাইস্কুল জামে মসজিদ। এই প্রকল্প সভাপতি হলেন মসজিদ কমিটির সভপতি আবদুল জলিল। তিনি বলেন, বরাদ্দ আনে দিছে নেতারা, দিচ্ছেও নেতারা। মধ্যখানে আমরা মসজিদের নাম ভাঙছি। নাম ভাঙাতে গিয়ে এক মসজিদকে দুইটা, তিনটা, পাঁচটা বানানো হয়েছে। চেয়ারম্যান আমাকে কাগজপত্রে সই করতে বলেছেন আমি দিয়ে দিয়েছি।

ঝলঝলিপুকুর জামে মসজিদের সভাপতি এবং ওয়াজ মাহফিলের প্রকল্প সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, মসজিদের আয়োজনে কখনো ওয়াজ মাহফিল করলাম না। কিন্তু আমাকে প্রকল্পের সভাপতি করে, আমার সই জাল করে সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হলো। আর সেই চাল বিক্রির টাকা চলে গেল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাতে, এটা কেমন কথা। এখন ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান চাল বিক্রির সামান্য টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন।

একটা অংশ কমিটির কাছে দিচ্ছেন, তখন সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মো. শামসুজ্জামান ওরফে দুলাল বলেন, আমি এলাকায় সামাজিক কাজ করি। সরকারি বরাদ্দ কীভাবে পেতে হয় অনেক প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেটা জানে না। আমি তাদের সেসব বরাদ্দ পাইয়ে দিতে সহায়তা করি। সেটা করতে গিয়ে অনেক সময় ভুলও হয়। এক্ষেত্রে কিছু কিছু ভুল হয়ে গেছে।

ঢোলরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্মল কুমার বর্মণ বলেন, এলাকার কিছু মসজিদ-মন্দিরের সরকারি বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে এটা সত্যি। তবে চাল আত্মসাতের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) গোলাম কিবরিয়া বলেন, বরাদ্দের চাল গত জুন মাসের একেবারে শেষ দিকে এসেছে। এ কারণে বরাদ্দের প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ করতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, বরাদ্দ পেতে আগ্রহীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করতে পিআইওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি ঠিকমতো কাজটি করলে, এমনটি হতো না। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এ বিষয়ে বলেন, সরকারি চাল বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।

"