মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা

টাঙ্গাইলে এমপি রানার জামিন নিয়ে উত্তেজনা

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি ঘাটাইলের এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। আদালত চত্বর ও শহরের বিভিন্ন স্থানে গতকাল বুধবার দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। বেলা ১১টার দিকে এমপি রানার সমর্থকরা তার মুক্তির দাবিতে শহরের শামসুল হক তোরণ এলাকায় অবস্থান নেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। পরে বিকালে শুনানি শেষে রানার জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জামিন আবেদনের শুনানির জন্য টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম) আদালতের বিচারক মাকসুদা খানমের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন ২৭ সেপ্টেম্বর আর জামিন আবেদনের শুনানির রায় ধার্য করেন বিকাল ৪টায়। বিকালে শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বিকালে প্রেস কনফারেন্সে জানান, এমপি রানার জামিনের শুনানিকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের আদালত চত্বর ও শহরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। শহরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে দুই গ্রুপের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ১০-১২ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এ হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের নাম বেরিয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এ মামলায় এমপি রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

"