স্কুলছাত্র সিয়াম হত্যায় তিনজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার মাসদাইরের স্কুলছাত্র আরাফাত রহমান সিয়াম আহমেদ (১০) হত্যা চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ে ৬ আসামির মধ্যে তিনজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও অপর তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালত এ হত্যা মামলার ৬ জন আসামির মধ্যে মাসদাইর এলাকার ফারুক মন্ডলের ছেলে মেহেদী মন্ডল, মাসদাইরের আরমান মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুল মতিনের ছেলে ভ্যানচালক আসলাম মিয়া ও শ্রমিক হালিমকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। এদের মধ্যে আসলাম মিয়া পলাতক রয়েছেন। আর অপহরণের পর গুমের অভিযোগে প্রত্যেককে আরো ৭ বছর করে কারাদন্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

তবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামি মাসদাইর এলাকার ফারুক মন্ডল, স্ত্রী মেরিনা মন্ডল এবং বিপ্লবকে খালাস দেন আদালত। শিশু সিয়াম ফতুল্লা মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা মাদবরের ছেলে।

এদিকে রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম এম ওয়াজেদ আলী খোকন আদালতের এমন আদেশে খুশি নন বলে জানান।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছয়জনকে অভিযুক্ত করে এসআই গোলাম মোস্তফা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ২৯ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করার পর এর মধ্যে ২২ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আদালত তিনজনকে যাবজ্জীবন ও তিনজনকে খালাস দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সংক্ষুব্ধ, এ রায়ের মাধ্যমে সঠিকভাবে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। বাদী এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবে বলে জানিয়েছে। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আগামীকালই আবেদন করব।

অপরদিকে রায় ঘোষণার পর চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহত সিয়ামের বাবা মোস্তফা মাদবর বলেন, আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট এই রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওই দিন আদালত রায় ঘোষণার তারিখ পরিবর্তন করে ৪ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, কবুতর কেনার টাকা না দেয়ায় ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর মাসদাইর এলাকার মোস্তফা মাতবরের ছেলে আদর্শ স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র আরাফাত হোসেন সিয়ামকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মেহেদী মন্ডল। হত্যাকান্ডের পর লাশ গুমে সহযোগিতা করে ঘাতক মেহেদী মন্ডলের বাবা ফারুক মন্ডল ও তার মা মেরিনা মন্ডল। এরপর ২৩ নভেম্বর সিয়ামের বস্তাবন্দি লাশ মুন্সীগঞ্জের শান্তিনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার দুই বছর পর ২৪ নভেম্বর সিয়ামের বাবা ৬ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। কয়েক দফা তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন শেষে ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে এসআই গোলাম মোস্তফা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত ভ্যানচালক আসলাম ও মেহেদী মন্ডল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকান্ড ও লাশ গুমের বর্ণনা দেন।

"