পদ্মা সেতুর কাজে গতি : আরো চার খুঁটি চূড়ান্ত

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

গতি বাড়ছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজে। সম্প্রতি সেতুর ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ নম্বর খুঁটির নকশা চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এসব খুঁটিতে যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে, তা দেশে প্রথম এবং বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি সেতুতে হয়েছে। বাকি ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭ নম্বর খুঁটির চূড়ান্ত নকশা অক্টোবরের মধ্যে আসবে বলে আশাবাদী প্রকৌশলীরা। এ ছাড়া নদীতে যে পাইল বসবে তার ১৬৯টি ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, কাজের গতি সচল রাখতে ঈদে ছুটি নেয়নি প্রকৌশলীদের বড় একটি অংশ। জাজিরা প্রান্তে স্প্যান ও বেয়ারিংয়ের সংযোগ দৃঢ় করতে চলছে ঝালাইয়ের কাজ। এটি শেষ হলে ভেতরে বসবে কংক্রিটের গার্ডার। প্রতিটি ইন্টারভ্যাল খুঁটির ওপর দুটি বেয়ারিং এবং মুভমেন্ট জয়েন্টে চারটি করে বেয়ারিং বসছে। সেতুর ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৯, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর খুঁটির পাইল সম্পন্ন হয়েছে। খুঁটিগুলোতে পরবর্তী ধাপের কাজ চলছে। সেতুর রোডওয়ে বক্স স্লাভ ৪৫টি ও রেলওয়ে ৬৫০টি বক্স স্লাভ শেষ হয়েছে। নদীতে যে পাইল বসবে তার ১৬৯টি পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে।

আরো জানা যায়, নকশা চূড়ান্ত হওয়া চারটি পিলারে স্ক্রিন গ্রাউটিং করে সমাধান মিলেছে। দেশের প্রথম কোনো সেতুতে স্ক্রিন গ্রাউটিং হচ্ছে। হাতেগোনা বিশ্বের কয়েকটি সেতুতে এটি হয়েছে। পদ্মা নদীর সয়েল কন্ডিশন ভালো না। প্রথমে এখানে বেজ গ্রাউটিং করেও ভালো ফল আসেনি। তাই নতুন করে স্ক্রিন গ্রাউটিং করা হচ্ছে।

মূল সেতুর প্রকৌশলী জানান, পাইলিংয়ের জন্য ২৯-৩২ নম্বর পিলারের ওপর লোহার পাত লাগাতে হয়। বর্তমানে সেই পাতগুলো ওয়েল্ডিং করে লাগানো শুরু হয়েছে। নকশা বাকি থাকা সাত খুঁটিতে টিডি-১০ নামে টেস্টিং পাইলের পরীক্ষামূলক কাজ চলছে। এর আগে ‘থ্রিসি’ নামে একটি টেস্ট পাইলের পরীক্ষা করা হয়। যার ফল ভালো এসেছে এবং সে রিপোর্ট বিদেশে পরামর্শকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের ২০ সেপ্টেম্বর সাত খুঁটির টিডি-১০ নামে টেস্টিং পাইলের পরীক্ষা শেষ হবে। আর চূড়ান্ত অনুমোদন আসতে পারে অক্টোবরে। জটিলতায় থাকা সাত খুঁটিতেও স্ক্রিন গ্রাউটিং করা হবে। সেতুর ৩৬ নম্বর খুঁটিতে পাইল ক্যাপ ও রড বাইন্ডিংয়ের কাজ চলছে।

মূল সেতুর সহকারী এক প্রকৌশলী বলেন, ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সেতুতে গাড়ি ও ট্রেন চলাচল করতে পারবে। উল্লেখ্য, সেতুর ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটির ওপর পাঁচটি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে জাজিরা প্রান্তে পৌনে এক কিলোমিটার কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সেতুর কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এর প্রায় চার মাস পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর মাত্র দেড় মাস পর ১১ মার্চ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যান বসানো হয়। এর দুই মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যান। আর পঞ্চম স্প্যানটি বসে এক মাস ১৬ দিনের মাথায়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

"