করালেন মেরুদন্ডের পরীক্ষা রিপোর্টে এলো ব্রেইন ক্যানসার!

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

৮৫ বছরের বৃদ্ধ নাজির আহমেদের মেরুদন্ডের পরীক্ষা করানো হয় চট্টগ্রামের নামকরা রোগ নিরূপণ কেন্দ্র শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে। পরীক্ষার প্রতিবেদন রোগীর স্বজনদের হাতে তুলে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রতিবেদন পেয়ে হতভম্ব হয়ে যায় স্বজনরা। কারণ পরীক্ষা করানো হয়েছিল মেরুদন্ডের, কিন্তু প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ব্রেইনের, তাও ব্রেইন ক্যানসার হয়েছে উল্লেখ করে।

জানা গেছে, নগরের চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা নাজির আহমেদ কিছুদিন আগে পড়ে গিয়ে মেরুদন্ডের হাড়ে আঘাত পান। পরে তিনি ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে এমআরআই পরীক্ষা না থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ২ সেপ্টেম্বর শেভরনে যান আঘাত পাওয়া অংশের পরীক্ষা করাতে। তিনি শেভরনে মেরুদন্ডের নিচের অংশ (এমআরআই অব লাম্বো সেকলার স্পাইন) পরীক্ষা করান। তার ইনভয়েস নম্বর ১৯৫৯১৪৩ ও তার আইডিজি-৮৭। গত সোমবার পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘এমআরআই অব লাম্বো সেকলার স্পাইন’ ঠিকই আছে কিন্তু এর দু’কলাম নিচে ‘ফাইন্ডিং’ লেখা হয় ‘ব্রেইন ক্যানসার’। এমনকি ‘ইমপ্রিশেনে’ও লেখা আছে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।

নাজির আহমেদের ছেলে শাহিদুল কাওসার বলেন, আমার বাবা মেরুদন্ডের হাড়ে আঘাত পেলে চট্টগ্রামের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা চলছিল। এরমধ্যে চিকিৎসকের পরামর্শে শেভরনে নিয়ে এমআরআই করানো হয়। গত সোমবার রাতে শেভরন থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদন মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসককে দেখালে তিনি বিস্মিত হন। পরে শেভরনে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা সংশোধিত রিপোর্ট দেন।

তিনি বলেন, একইদিন বাবার ব্রেইনের সিটি স্ক্যানিং করা হয়। যদি ওই ভুল রিপোর্ট ব্রেইনের রিপোর্টের অংশে ছাপা হতো তাহলে তারা বাবার ক্যানসার হয়েছে ভেবে পাগলের মতো হয়ে যেতাম আমরা।

প্রতিবেদনটির শেষ দিকে ‘সিনিয়র রেজিস্ট্রার ডা. ভিনয় ভি’ এর স্বাক্ষর রয়েছে। স্বাক্ষরটি একটি স্ক্যানিং স্বাক্ষর। অর্থাৎ কম্পিউটারে কপি পেস্ট করেই ওই স্বাক্ষরটি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনের শেষাংশে ছোট করে লেখা হয়েছে রিপোর্টটি এনএইচ টেলিরেডিওলোজি জেনারেট করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই ধরনের প্রতিবেদন রোগী কিংবা তাদের স্বজনদের সরবরাহ করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে (এক্ষেত্রে রেডিওলোজিস্ট) দেখিয়ে তার অনুমোদন ও স্বাক্ষর নিয়ে তারপর সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে হয়তো অনভিজ্ঞ ল্যাব টেকনিশিয়ান রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছেন।

জানতে চাইলে শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার পুলক পারিয়াল বলেন, ‘নাজির আহমেদের মেরুদন্ডের সমস্যা ছিল। ছাপার ভুলে এরকম হয়েছে। পরে আমরা ঠিক করে দিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"