ভুটানকে হারিয়ে জাগরণের সূচনা

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

২০১৬ সালে এশিয়ান কাপের প্রাক বাছাইপর্বের ম্যাচে থিম্পুতে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ভুটান। যেটি কি না বাংলাদেশের বিপক্ষে ভুটানের প্রথম জয়ও। ২ বছর পর কাল আরেকবার ভুটানের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছে লাল-সবুজরা। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সাফ ফুটবলের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে কোচ জেমি ডে-এর শিষ্যরা। ২ বছর আগে বাংলাদেশ মূলত হেরেছিল ভুটানের ‘রোনালদো’ খ্যাত ফরওয়ার্ড চেনচোর বিপক্ষে। সেবার জোড়া গোলদাতা চেনচোর কাছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম অত্যন্ত পরিচিত। ২ মৌসুম আগে চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সিতে খেলেছিলেন প্রিমিয়ার লিগ। তবে কাল বাংলাদেশের শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে তেমন কিছুই করে উঠতে পারেননি চেনচো। উল্টো বারবার জামাল ভূঁইয়া, মাহবুবুর রহমান সুফিল, সাদউদ্দিনদের চোখে চোখে রাখতে হয়েছে ভুটানের রক্ষণভাগকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই কাল ভুটানের জালে আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। যার ফলশ্রুতিতে কর্নার পায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ওয়ালি ফয়সাল কর্নার কিক নেওয়ার সময় বক্সের মধ্যে আতিকুর রহমান ফাহাদকে ফাউল করে বসেন ভুটানের এক ডিফেন্ডার। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান সঙ্গে সঙ্গে। স্পট কিক নিতে আসেন তপু বর্মন। তার লক্ষ্যভেদি শটে ম্যাচের ৩ মিনিটের মাথায় ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে আরো বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। সুফলটাও পেয়ে যায় দ্রুত। ৪৭ মিনিটে ভলিতে থেকে দুর্দান্ত গোল করে বাংলাদেশের ব্যবধানটা দ্বিগুণ করে দেন সুফিল। ম্যাচের বাকি সময়টুকু দুই দলই চেষ্টা করেছে গোলের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হেসেছে ডে-এর দল।

এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সাফ ফুটবলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অবশ্য গত ১৫ বছর ধরে বলার মতো তেমন কোনো ফল পায়নি এই টুর্নামেন্টে। তবে এবার ইংলিশ কোচ ডে-এর অধীনে শিরোপার দিকেই চোখ রাখছে জামাল ভূঁইয়ারা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য এগিয়ে ছিল ভুটান (১৮৩)। কিন্তু র‌্যাঙ্কিংই যে সবকিছু বিচারে মাপকাঠি নয় তাই প্রমাণ করেছে ১৯৪তম স্থান বাংলাদেশ।

সাফের ‘এ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নাটকীয় জয় পেয়েছে পাকিস্তান। উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ১ গোলে এগিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান জিতেছে ২-১ গোলে। ৩৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে পাকিস্তানকে এগিয়ে দেন মুহাম্মদ রিয়াজ। দ্বিতীয়ার্ধের ৮২ মিনিটে নেপালকে সমতায় ফেরান বিমল গার্তি মাগার। ৯০ মিনিটের যোগ করা সময়ে (৯০+৬) মিনিটে পাকিস্তানকে জয়সূচক গোল এনে দেন মোহাম্মদ আলী দাবাউস। ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচেও ভারতকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল পাকিস্তান।

"