সংসদ না ভেঙেই নির্বাচন হবে

আইনমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে না। এই সংসদ নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত চলবে। আর নির্বাচনকালীন সরকার কবে ঘোষণা করা হবে সেটি সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানাবেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওস্থ জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, অক্টোবরে বর্তমান সরকারের শেষ অধিবেশন হচ্ছে। এরপর কবে নাগাদ সংসদ ভাঙছে? এর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, সংসদ ভাঙবে না। সংসদের কার্যকাল পর্যন্ত এই সংসদ চলবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর যে সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন সেটা হবে এই সংসদের শেষ অধিবেশন। আর নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে আমাদের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেবেন। আমি না।’ নির্বাচনকালীন সরকারের আকার কেমন হবে তা জানতে চাইলে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। তাই নির্বাচনকালীন সরকারের আকার তিনিই (প্রধানমন্ত্রী) জানেন। কেননা, সংবিধান অনুযায়ী এটা তার দায়িত্ব।’

আরপিও সংশোধনীর বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আরপিও সংশোধনীর বিষয়ে ভেটিং ও আইনি পরামর্শের জন্য ফাইলটি আমার মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগে পৌঁছেছে। আমার কাছে এখনো আসেনি। লেজিসলেটিভ বিভাগ সেটা দেখবে, তারপর তা আমার কাছে পাঠাবে। এর আগে গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। নকলনবিশদের অনুলিপি কাজ বাবদ অর্থ আদায় ও পরিশোধ বিধিমালা, ২০১৮-এর আলোকে নকলনবিশদের পারিশ্রমিক প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আনিসুল হক বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ পাই কেউ ৫ বছর, কেউ এক যুগেরও বেশি সময় যাওয়ার পরও জমির রেজিস্ট্রেশন পান না। এর কারণ জানতে চাইলে আমাকে বলা হলো, বালাম নেই, ইনডেক্স নেই, সিøপ নেই, এ জন্যই দেরি হয়। মন্ত্রী হয়ে তখন আমাকে এ নিয়ে খোঁজ নিতে হলো। মন্ত্রী হওয়ার এক দুই মাসের মধ্যে এসব সমস্যা দূর করতে আমরা টেন্ডার দিয়ে সমস্যার সমাধান করি। এসব কাজ করতে গিয়ে একটি বিষয় উপলব্ধি করলাম যে নকলনবিশরা কাজ করবেন আজকে আর পারিশ্রমিক পাবেন দীর্ঘসময় পরে, তা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে হতে পারে না। শেখ হাসিনা এটা মেনে নেবেন না। তাই নকলনবিশদের সুবিধা দিতে আমরা কাজ করে যাই।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকে ঘরে বসে বক্তৃতা দেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, দেশ এমনিতেই উন্নত হয়ে যেত। কিন্তু আমার কথা হলো, নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে জনপ্রতিনিধিরা আছেন, প্রত্যেক এলাকায় জনগণের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেম্বাররা আছেন। তাই সর্বস্তরেই গণতন্ত্র আছে। আর গণতন্ত্র আছে বলেই শেখ হাসিনার সরকার দেশের উন্নয়ন করে। যারা ড্রইং রুমে বসে গণতন্ত্র নেই বলে, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিমানে চড়ে বসেন, জনগণ তাদের কথা শুনবে না। নিবন্ধন কার্যালয়ের মহাপরিদর্শক খান মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আইন বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক।

"