সিটি নির্বাচনে আচরণ বিধি সংশোধনে সায় নেই ইসির

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারের সুযোগ রেখে আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগে আপাতত সায় নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। আসন্ন নির্বাচনে কোন দল সরকার গঠন করে সে জন্য এখন অপেক্ষা সাংবিধানিক এই সংস্থাটির। পরিস্থিতি দেখে আগামীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন বলে জানা গেছে।

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটির নির্বাচন হওয়ার আগে এ-সংক্রান্ত বিধি সংশোধনে কমিশনের যতটা তোড়জোড় ছিল, এখন ততটাই ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করছে কমিশন। তাছাড়া ওই সময় বিধিটি সংশোধনের আগেই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় কার্যক্রমটি থমকে যায়। বর্তমানে সংসদ নির্বাচনের আগে আর কোনো সিটি নির্বাচন না থাকায় এ নিয়ে আর কোনো উচ্চবাচ্য নয়।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে সিটির বিধি সংশোধন হচ্ছে না। আর নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দীন বলেন, সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এখন নতুন করে, এ-সংক্রান্ত আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া সমীচীন হবে না। কারণ সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমনকি নতুন সংসদ বসার আগ পর্যন্ত কোনো সিটি নির্বাচনও নেই, যোগ করেন কমিশন সচিব।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, স্থানীয় নির্বাচনে এমপিদের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে অনেকদিন ধরে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ দাবি আরো জোরালো হয়। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলÑ আওয়ামী লীগের এমপিদের মধ্যে বেশি আলোচনা ও ক্ষোভ ছিল। দলীয় এমপিদের চাপের পরিপ্রেক্ষিতে হঠাৎ গত ১২ এপ্রিল এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে আসেন। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ রেখে আচরণবিধির পরিবর্তনের দাবি জানান।

ক্ষমতাসীনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল কমিশন সভায় সিটি ভোটে এমপিদের প্রচারণায় সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। সভা শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বে আইন ও বিধিমালা সংস্কারে একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি বিধিমালা সংশোধনের ধারা পর্যালোচনা করে একটা রিপোর্ট দেবে। দ্রুততম সময়ে রিপোর্ট কমিশনে উত্থাপন করবে কমিটি।

ইসি কর্মকর্তাসহ কমিশনাররা এ প্রশ্নে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেন নির্বাচন কমিশনার মাহ্বুব তালুকদার। কিন্তু সব সমালোচনা ও বিতর্ক উপেক্ষা করে অন্য তিন কমিশনারের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে আচরণ বিধি সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এ প্রস্তাবে স্ববিরোধী প্রস্তাব জুড়ে দেয় ইসি; সিটির বিধিতে বলা হয়, সিটির আওতাধীন স্থানীয় এমপিরা প্রচারে নামতে পারবেন না, তবে অন্য এমপিদের প্রচারে বাধা নেই। আইন মন্ত্রণালয় কমিশনের এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করে উল্লেখ করেন, সব এমপি প্রচারে নামতে পারবেন এবং সবাই ব্যবহার করতে পারবেন সার্কিট হাউস। আইন মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব পেয়ে কমিশন সংকটে পড়ে যায়। ততদিনে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটিতে তফসিল ঘোষণা হয়েছিল। ফলে এমপিদের প্রচারে সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশের তড়িঘড়ি আইন সংশোধনের উদ্যোগ আর কাজে আসেনি। এরমধ্যে সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম সামনে চলে আসায় নতুন করে এ বিধি সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকে ইসি। এখন তারা তাকিয়ে আছেন কারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন করবেন। তখন সিটির আইনটি পুনরায় সংশোধনে মনোযোগী হবেন কি হবেন না পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এমনটিই জানিয়েছেন ইসির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখন চলছে নির্বাচনের সামগ্রী ক্রয়সহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম। আরপিও সংশোধন করে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তের জন্য এখন রয়েছে নানামুখী চাপে রয়েছে কমিশন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে ইভিএম প্রসঙ্গে বলেন, তাড়াহুড়া করে এটি চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এখন এ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম থেমে যায় কি না এ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে ইসিকে।

"