চার দিনেও সন্ধান মেলেনি সাবেক র‌্যাব অধিনায়কের

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

চার দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) হাসিনুর রহমানের। কারা তাকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে গেছে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে পারছে না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশে এতটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল যে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকেও কোনো কিছু শনাক্ত করা যায়নি। গত ৮ আগস্ট রাত সোয়া ১০টায় রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের ডিওএইচএস এলাকার ১১ নম্বর সড়কের ৭৯২ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে হাসিনুরকে মাইক্রোবাসে করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর গতকাল রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে ‘অপহৃত’ হাসিনুর রহমানকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান ডিউকের ফেসবুক আইডি যাচাই করে মন্তব্য করেন, সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিনি ফেসবুকে নানা তথ্য শেয়ার করে পোস্ট দিয়েছেন। এসব তথ্যের বেশিরভাগই ভুয়া ও মিথ্যা। এসব বিষয়েও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, হাসিনুরের সন্ধানে সব চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার স্ত্রীর দায়ের করা জিডির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের পাশে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কিছুই মেলেনি। ফুটেজে সব কিছুই অস্পষ্ট। তাই ‘তুলে নেওয়ার’ ঘটনায় জড়িত কিংবা হাসিনুরকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তবে তাকে খুঁজে পেতে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পল্লবী থানার ওসি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি হাসিনুরের বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী শামীমা আক্তার। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তাই পিস্তলটি জব্দ করে থানার মাল খানায় জমা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পর যিনি মালিক, তার কাছেই ওই পিস্তল হস্তান্তর করা হবে।

গত ৮ আগস্ট রাত ১০ টা ২০ মিনিটে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ১১ নম্বর রোডের ৭৯২ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তাকে মাইক্রোবাসে করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিওএইচএস এলাকার ৪ নম্বর এভিনিউয়ের ১০ নম্বর রোডের ৬৫৯ নম্বর বাড়িতে হাসিনুর রহমান ডিউক সপরিবারে থাকতেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী শামীমা রহমান পল্লবী থানায় অপহরণ সংক্রান্ত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ দ্রুত ছুটে যায়। পুলিশ ৭৯২ নম্বর বাড়ির সামনের রাস্তায় হাসিনুরের লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে।

"