উত্তরায় হাট নিয়ে দুই গ্রুপ মুখোমুখি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর গোলচত্বর সংলগ্ন খালি জায়গার হাটের শেয়ার নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও তুমুল বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হাটটির ১ নং হাসিল ঘরে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোক দিবসের ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এতে করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবার ১০টি হাটের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে। এরমধ্যে ৮টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুইটির মধ্যে একটি বাতিল, অন্যটির এখনো টেন্ডার হয়নি। ইজারা হওয়া ৮টি হাটের মধ্যে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নং গোল চত্বর সংলগ্ন খালি জায়গার হাটটি ইজারা পেয়েছে উত্তরখান থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। শফিকুল হাটের ইজারা পেলেও তার থেকে হাটের শেয়ার দাবি করেন তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাশিম চেয়ারম্যানের দুই ছেলে জাহিদুল ও মহিবুল হাসান। তারা স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হাটটির ১ নং হাসিল ঘরে ইজারাদারের লোক তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক নুর হোসেনের কাছে হাটের শেয়ার দাবি করে। নতুন করে শেয়ার দেওয়ার সুযোগ নেই বলে অপারগতা প্রকাশ করলে হাশিমের দুই ছেলের সঙ্গে ওই সময় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ সময় ক্ষুব্ধ জাহিদুল ও নাজমুল তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মো. নুর হোসেন, শরিফ, স্বাগর ও যুবরাজ মেম্বরসহ ১০-১২ জনের ওপর হামলা চালায়। পরে জাহিদুলের লোকেরা ১২ নং সেক্টর কবরস্থান থেকে শুরু করে ১৫ নং সেক্টরের ২ নং ব্রিজ পর্যন্ত ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে টানানো মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসানের সকল ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। প্রসঙ্গত, হাটের ইজারাদার তার লোক হিসেবে পরিচিত।

ঘটনার সূত্র ধরে গতকালও হাট এলাকায় দুই পক্ষের লোকজনকে শোডাউন করতে দেখা গেছে। যেকোনো সময় হাটের শেয়ার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। যেখানে হাট শুরু হতে এখনো কয়েকদিন বাকি।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী নুর হোসেন ও যুবরাজ মেম্বর বলেন, জাহিদুল ও নাজমুল হাসিল ঘরে ঢুকে আমাদের কয়েকটা ছেলের গায়ে হাত তুলে। এ সময় আমরা তার প্রতিবাদ করায় আমাদের সঙ্গেও হাতাহাতি হয়েছে। কিছু সময় পরে আমরা হাবিব ভাইয়ের নামে করা শোক দিবসের সকল ফেস্টুন ছেঁড়া দেখতে পাই। কে বা কারা এটা করেছে আমরা দেখিনি। তবে জাহিদুলরা এটা করে থাকতে পারে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদুল হাসান বলেন, হাট ইজারায় আমিও ২০ শতাংশ শেয়ার আছি। এখানে নতুন করে শেয়ার দাবি করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

হাতাহাতির ঘটনা প্রসঙ্গে জাহিদুল বলেন, হাসিল ঘরে যাওয়ার পরে আমাদের বসার চেয়ার চাওয়ায় নুর হোসেনের সঙ্গে থাকা বিএনপির কয়েকটা ছেলে বেয়াদবি করায় তাকে একটা থাপ্পর দেয় আমাদের এক ছোট ভাই। এ সময় হাসিল ঘরে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের বাকবিতন্ডা হলে, আমরা সেখান থেকে চলে যাই।

তিনি আরো বলেন, ফেস্টুন ছেঁড়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বাবা, হাবিব কাকার রাজনৈতিক গুরু, উনার ফেস্টুন আমরা কেন ছিঁড়তে যাব, নুর হোসেনরাই ফেস্টুন ছিঁড়ে আমাদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে।

"